1. admin@janasongjog.com : admin :
  2. bookcafebd21@gmail.com : Sazzadur : Sazzadur
  3. zakirmin976@gmail.com : Zakir_min :
মোহাইমিনের শুভংকরের ফাঁকি ও ইসলামী ব্যাংকিং পর্ব-৩ | জনসংযোগ
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

মোহাইমিনের শুভংকরের ফাঁকি ও ইসলামী ব্যাংকিং পর্ব-৩

  • প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে
20220913 102806

মোহাইমিনের শুভংকরের ফাঁকি ও ইসলামী ব্যাংকিং পর্ব-৩

ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিনিয়োগ করে।এখন এটি সুদের বিনিময়ে করলে সুদী বা কনভেনশানাল ব্যাংক আর সুদের বাইরে গিয়ে “বাইয়া” করলে ইসলামী ব্যাংক।ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ ফলো করে যা সুদী ব্যাংক করেনা। ইসলামী শরীয়ায় ব্যাবসার বহু ধরন আছে। প্রধানতঃ তিনটি মোড- বাই,শিরকত ও ইজারা। প্রত্যেকটি মোডে আবার এক বা একাধিক ম্যাকানিজমও রয়েছে। এটিই আরববিশ্ব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও আফ্রিকাসহ সারা বিশ্বে প্রচলিত,স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। মোড,ম্যাকানিজম প্রাকটিচে দেশ ও অঞ্চল ভেদে সবাই এক ও অভিন্ন।

প্রতিটি ম্যাকানিজম সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত,বৈশিষ্ট দ্বারা চিহ্নিত ও আওফি (AAOIFI) কর্তৃক স্বীকৃত। শরীয়াহ বোর্ডের এক্সপার্ট ছাড়াও প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক,যারা লাইসেন্স ইস্যু করে,তাদের ইসলামী ব্যাংকিং ইউনিট এগুলো দেখভাল,নিয়ন্ত্রন ও অডিট করে থাকে।কাজেই আপনি ইসলামী ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে শরীয়াহর নামে ফাজলামি করার কোন স্কোপ নেই।তবে পরিচালনাগত কোন ত্রুটি বা ভুল হলে সেটা সংশোধন করতে হয় অথবা সে খাতে পাওয়া মুনাফা আয় থেকে বাদ দিতে হয়।

এটাই সংক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের মোড অব অপারেন্ডি।এখন মোহাইমিন সাহেবের প্রশ্ন ব্যাংক কেন নিজে ব্যবসা করেনা? কেন ব্যাংকের মুরাবাহা গ্রোসারী শপ নেই,কেন বাই মুআজ্জাল ডিসপ্লে সেন্টার নেই ? তাহলে ব্যাংক তো সরাসরি বিক্রয়কারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারতো এবং তাতে বেচাকেনা একশতভাগ নিশ্চিত হওয়া যেতো।আমি তার এ বোধদয়কে স্বাগত জানাই।হতে পারে এমনটি তিনি আমস্টারডাম ইসলামী ব্যাংকে দেখেছেন।এটি অবাস্তব নয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকালে তারা আমাদেরও পাইওনিয়ার স্পনসার ছিলেন,মূলধনের যোগানও দিয়েছিলেন।মোহাইমিনের এটি কেবল সন্দেহ ও প্রশ্নই নয় এটিই তার সেই আসল শুভংকরের ফাঁকি।তিনি লিখেছেন-

Quote

শুভংকরের ফাঁকি
প্রচলিত ব্যবসা মুরাবাহা, বায়-মুয়াজ্জাল, লিজিং এবং ইসলামি ব্যাংক কর্তৃক চৰ্চাকৃত মুরাবাহা, বায় মুয়াজ্জাল, লিজিং ইত্যাদি এক না । আপনার এলাকার পরিচিত মুদি দোকান থেকে কিছু কেনার পর আপনি যখন দোকানিকে বলেন, “ভাই রে, এই মাসে হাতে কোনো টাকা নেই। তুই সামনের মাসে ভাইয়ের থেকে থেকে টাকাটা নিয়ে নিস।” এটা হচ্ছে বায়-মুয়াজ্জাল (বাকিতে বিক্রয়) লেনদেন । তাহলে ব্যাংক যে গুদাম বা দোকান ছাড়াই সবকিছু বিক্রি করে ফেলছে সেইটা কী? এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসলামি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগের যুগের মুরাবাহা, বায়-মুয়াজ্জাল এবং আধুনিক ব্যাংকিং মুরাবাহা ও বায়-মুয়াজ্জাল এক নয় । আমরা এখন দোকানের মতো পণ্য সাজিয়ে না রেখেও চুক্তিভিত্তিক লেনদেন করে সব ব্যবসা করে ফেলতে পারি।(পৃষ্ঠা ২৯)

এভাবে ব্যবসার আড়ালে ইসলামি ব্যাংকগুলো ঋণ আদান প্রদানের কাজ কৌশলে সেরে নেয় । আপনি চাইলে নিজেও তা প্রমাণ করতে পারবেন । আপনি যদি একটি গাড়ি কিনতে কোনো ইসলামি ব্যাংকে ঋণ নিতে যান, ব্যাংক আপনার কাছে গাড়ি বিক্রি করে দেবে। কিন্তু আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন, “ভাই, আপনিতো আমার কাছে গাড়ি বিক্রি করে ফেলেছেন, আপনার ‘ট্রেড লাইসেন্সটা দেখিতো।” উত্তরে ব্যাংক বলবে, “কি যা তা বলছেন! আমিতো ‘ব্যাংক’। এখানে গাড়ি বিক্রির লাইসেন্স কোথা থেকে আসবে? আমার কাছে টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই । আপনি আপনার পছন্দ মতন গাড়ি যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে কেনেন। আমি টাকা দেব। তারপর আরো বেশি দামে আপনার কাছে বিক্রির হিসাব দেখিয়ে বাড়তি টাকা ফেরত নিব।” এভাবেই ইসলামি ব্যাংক স্বীকার করবে যে সে কোনো ব্যবসায়ী না। সে ঋণ আদান প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান । তবে জুতা থেকে সুতা পর্যন্ত যা কিছুই কিনতে আপনি সেখানে যান না কেন, ইসলামি ব্যাংক তাই আপনার কাছে বিক্রি করে দেবে । (পৃষ্ঠা ২৪)

Unquote
লেখক নিশ্চয়ই জানেন বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যাবসা “Bank Company Act 1991” পরে ২০২১ এ সংশোধিত হয় -এই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।এই আইনে ব্যাংকগুলো কি কি কাজ করতে পারবে তার সুস্পস্ট বিবরণ রয়েছে।যেমন-

৭৷ (১) ব্যাংক-ব্যবসা ছাড়াও, কোন ব্যাংক-কোম্পানী নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন ব্যবসায় নিয়োজিত হইতে পারিবে, যথা :-(ক) ঋণ গ্রহণ, অর্থ সংগ্রহ বা গ্রহণ; (খ) জামানত লইয়া বা জামানত ব্যতিরেকে অগ্রিম অর্থ বা কর্জ প্রদান;(গ) বিনিময় বিল, হুণ্ডি, প্রতিশ্রুতিপত্র, কূপন, ড্রাফ্‌ট, বহনপত্র, রেলওয়ে রশিদ, ওয়ারেন্ট, ঋণপত্র, সার্টিফিকেট, মেয়াদী অংশগ্রহণ-পত্র, মেয়াদী অর্থ সংস্থান-পত্র, মুশারিকা সার্টিফিকেট, [মুদারাবা] সার্টিফিকেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অনুরূপ অন্যান্য দলিল, এবং হস্তান্তর বা বিনিময়যোগ্য হউক বা না হউক এমন অন্যান্য দলিল ও সম্পত্তি নিদর্শন-পত্র, ক্ষেত্রমত, সম্পাদন, লিখন, দাবী প্রস্তুতকরণ, বাট্টাকরণ, ক্রয়, বিক্রয়, সংগ্রহ এবং লেনদেন;(ঘ) লেটার অব ক্রেডিট, ট্রাভেলার্স চেক, [ব্যাংক কার্ড] এবং সার্কুলার নোট অনুমোদন ও ইস্যু করা;(ঙ) স্বর্ণ, রৌপ্য ও অন্যান্য ধাতব মুদ্রা ক্রয়, বিক্রয় এবং লেনদেন;(চ) বিদেশী ব্যাংক নোটসহ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় এবং বিক্রয় এবং আরো আরো।

ইসলামী ব্যাংকের জন্য আলাদাভাবে কোন আইন এখনো প্রণীত হয়নি তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের GUIDELINES FOR ISLAMIC BANKING November 2009 মেনে ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে বাধ্য এবং এটি লাইসেন্সিং এর শর্ত।সেখানে Section Roman 4 এ বলা হয়েছে-

Islamic banks receive deposits under two principles:
i) Al-Wadeeah principle.
ii) Mudaraba principle.

আর বিনিয়োগ ম্যাকানিজমগুলো হবে-
Islamic banks do not directly deal in money.
They run business with money.
The funds of Islamic banks are mainly invested in the following modes:
1) Mudaraba;
2) Musharaka;
3) Bai-Murabaha (Murabaha to the purchase orders);
4) Bai-Muajjal;
5) Salam and parallel Salam;
6) Istisna and parallel Istisna;
7) Ijara; Ijarah Muntahia Bittamleek (Hire Purchase);
9) Hire Purchase Musharaka Mutanaqisa (HPMM);
10) Direct Investment;
11) Investment Auctioning etc.
12) Quard
13) Quard Hassan etc.

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোন জায়গায়ই ব্যাংকসমূহকে সরাসরি মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়না।বরং ব্যাংক ব্যবসার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়।তার আওতায় ইসলামী ব্যাংকগুলো গাইডলাইন ২০০৯ মোতাবেক গ্রাহকের চাহিদার ভিত্তিতে মোড ও ম্যাকানিজম মেনে ক্রেতা হয়ে মালামাল কিনে গ্রাহকের কাছে চুক্তি অনুয়ায়ী বিক্রয় করে।এটি একটি সমন্বিত বিষয়।ব্যাংক কোম্পানী আইন প্লাস গাইডলাইন ফর ইসলামী ব্যাংকিং।তারপরও বলি, বাংলাদেশে গত এক দশক ধরে পৌর কর্পোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃক স্থানীয়ভাবে ব্যাংক ব্যবসা চালাতে হলে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়।এটি ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রত্যেকটি শাখার রয়েছে।আপনি চাইলেই যে কোন শাখায় লাইসেন্সের পাশাপাশি এটিও ম্যানেজার সাহেবদের রুমে প্রকাশ্য স্থানে ঝুলানো অবস্থায়ই পাবেন।আল্লাহর ওয়াস্তে পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

আপনি বুঝতে চাইলে এভাবেই বুঝুন,খন্ডিতভাবে নয়।খন্ডিত বুঝ নিজের দেমাগে সারাজীবন প্রতিপালন করুন,সমস্যা নেই কিন্ত যখনই তা প্রসব করে বাইরের জগতে আলোর মুখে পড়বে তখনই বিপদে পড়বেন। কারণ লোকেরা এখন সব জানে,লুকোচুরি করার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে।

@জামান

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..