1. admin@janasongjog.com : admin :
  2. bookcafebd21@gmail.com : Sazzadur : Sazzadur
  3. zakirmin976@gmail.com : Zakir_min :
মোহাইমিনের শুভংকরের ফাঁকি ও ইসলামী ব্যাংকিং পর্ব-৭ | জনসংযোগ
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

মোহাইমিনের শুভংকরের ফাঁকি ও ইসলামী ব্যাংকিং পর্ব-৭

  • প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে
20220913 102806

মোহাইমিনের শুভংকরের ফাঁকি ও ইসলামী ব্যাংকিং পর্ব-৭

ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম একটি বিনিয়োগ মোড “Hire-Purchase Under Shirkatul Melk” মূলতঃ এটি একটি যৌথ পুঁজির ভিত্তিতে যৌথ মালিকানায় সম্পদ ক্রয় ও ভাড়ায় খাটানো। নন ফানজিবল ও দীর্ঘ সময়ে ব্যবহারজনিত সম্পদ ক্রয়ে যেমন গাড়ী,বাড়ী, কারখানার ভারী মেশিনারী ইত্যাদির ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগটি কার্যকর। জনাব মোহাইমিন এখানেও বিনিয়োগ পদ্ধতিটির যথেচ্ছা বিকৃত উপস্থাপন করেছেন। তার কাছে মনে হয়েছে,ইসলামী ব্যাংক একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং এর ফান্ড আল্লাহর ওয়াস্তে বিনা লাভে নিঃস্বার্থ বন্টনযোগ্য কোন তহবিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,এখানে ভাড়ার যে অংশ গ্রাহককে দিতে হয় সে অংক সুদের প্রায় সমপর্যায়ের,তাই এটা সুদ। এমন অথর্ব যুক্তির কথা শুনে আমি স্কুলজীবন পড়া ইংরেজী গদ্য “The Barbara of Baghdad” এর “Whoever heard of such a bargain?” লাইনটির কথা মনে পড়ে গেল।

তিনি লিখেছেন-Quote

লিজিং ও শিরকাতুল মিল্ক লিজিং বা ইজারাহ্ এক ধরনের ঋণ প্রদান পদ্ধতি । এখানে ব্যাংক একটি বস্তু ভাড়া দিয়ে সুদের হারের অনুপাতে ভাড়া নেয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি ব্যবসা, যেহেতু ব্যাংক আপনার কাছে একটি বস্তু ভাড়া দিচ্ছে এবং তার বিপরীতে ভাড়া তুলছে । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ব্যাংক যেই বস্তুটি ভাড়া দেয় তার সাথে বাজারের কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়ার হার মিলে না । বরং প্রচলিত ব্যাংকের সুদের হারের সাথে এই ভাড়ার হার পুরোপুরি মিলে যায় এবং একই সাথে উঠানামা করে । এক বাক্যে এটি ভাড়ার নামে ঋণ প্রদান ও সুদ গ্রহণ ।

ইসলামি ব্যাংকগুলো বর্তমানে লিজিং থেকে সরে বেশি বেশি শিরকাতুল মিল্কের দিকে যাচ্ছে । তাই হায়ার অ্যান্ড পারচেস আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক বর্তমানে ইসলামি ব্যাংকগুলোর অন্যতম জনপ্রিয় ফাইনান্সিং মোড। এই প্রক্রিয়াটি লিজিং-এর খুব কাছাকাছি। শিরকাতুল মিল্ক পদ্ধতিতে একজন গ্রাহক এবং একটি ব্যাংক যৌথ পুঁজিতে পণ্য (যেমন— জাহাজ) কিনে নেয় । তারপর গ্রাহক কিস্তি দিয়ে ব্যাংকের মালিকানার অংশ কিনে নেয় এবং তার সাথে একটু বাড়তি প্রদান করে । …….এই পদ্ধতিতেও ব্যাংক হাত প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। এখানে সম্পদের ভাড়ার হার প্রচলিত হারের সাথে মিল করে নির্ধারণ করা হয়। সম্পদ ইন্সুরেন্স করা থাকে দেখে মাল হারানোর ক্ষতিও নেই।আবার ব্যাংকের নামে সম্পদ কোলেটারেল থাকে যেন কোন কারণে আপনি দেউলিয়া হয়ে গেলে ব্যাংক সম্পদের মালিক হয়ে যায় । এমনকি কিস্তি দিতে না পারলে সুদের পরিমাণও বাড়তে থাকে। সবমিলিয়ে শিরকাতুল মিল্কে প্রচলিত ব্যাংকের ঋণ ও সুদের নিয়ম অনুসারে হয়ে থাকে,এখানে ব্যবসার তেমন কোন ঘ্রান নেই।

Unquote

আসুন এবারে জানি হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্‌ক (HPSM) পদ্ধতিটি কি? এই পদ্ধতিতে ব্যাংক কিভাবে বিনিয়োগ দেয়,লাভ বা ভাড়াইবা কিভাবে আদায় করে ?

হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্‌ক (HPSM) হলো এক বিশেষ সমন্বিত চুক্তি। অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এ পদ্ধতির উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি মালিকানায় শরীকানা, ২. ইজারা ও ৩. বিক্রি-এই তিন চুক্তির সমন্বয় । ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর শরীয়াহ কাউন্সিলের মতে : “মালিকানার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হায়ার পারচেজ (হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্‌ক বা ইজারা বিল বাই’ তাহতা শিরকাতুল মিল্‌ক) শরীয়াসম্মত একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। এর প্রধান শর্তগুলো নিম্নরূপ :

ক. মূলধন অনুপাতে অংশীদারগণের মালিকানার স্বীকৃতি দেয়া যাতে পরবর্তীতে তাদের বা তাদের ওয়ারিসগণের বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে ।
খ. ক্রেতাকে তার পরিশোধিত মূল্যের আনুপাতিক মালিকানা ব্যাংক কর্তৃক হস্তান্তর করা।”.

এখানে তিনটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য-মালিকানায় শরিকানা,ইজারা বা ভাড়ায় ব্যবহার ও বিক্রয়।

‘শিরকাত’ অর্থ অংশীদারী। ‘শিরকাতুল মিলক’ মানে মালিকানায় শরীকানা। এ ধরনের শরীকানা কারবারে দুই বা তারচেয়ে বেশি ব্যক্তি তাদের মূলধনে কোন সম্পদ কিনেন এবং যৌথভাবে তার ওপর মালিকানা লাভ করেন।

ইজারা আরবী ‘আজর’ এবং ‘উজরাত’ শব্দ হতে ‘ইজারা’ পরিভাষাটি উদ্ভূত। ‘আজর’ মানে প্রতিদান, লাভ, মজুরী বা ভাড়া। ইজারা হলো কোন সম্পদ ব্যবহারের বিনিময় মূল্য বা প্রতিদান, লাভ, মজুরী বা সেবার ভাড়া। ভাড়াদাতা ও ভাড়াগ্রহীতার মধ্যে ইজারা চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াগ্রহীতা ভাড়াদাতার সম্পদের ব্যবহার বা সুবিধা গ্রহণ করেন। বিনিময়ে ভাড়াদাতাকে নির্দিষ্ট অর্থ দেন ।

বিক্রয়’ হলো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তি। এ চুক্তির মারফতে বিক্রেতার মালিকানাধীন কোন নির্দিষ্ট পণ্য বা সম্পদ নির্ধারিত মূল্য নগদ বা আগাম বা ভবিষ্যতে পরিশোধের শর্তে ক্রেতার মালিকানায় ন্যস্ত হয়।

তিন চুক্তির সমাহার ছায়ার পারচেজ আক্তার শিরকাতুল মিলক’ পদ্ধতিতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয় প্রথমতঃ সম বা অসম পুঁজি বিনিয়োগ করে কোন সম্পদ (ভূমি, দালান, যন্ত্রপাতি, যানবাহন ইত্যাদি) কিনে যৌথভাবে সে সম্পদের ওপর মালিকানা লাভ করেন। দ্বিতীয়তঃ এরূপ সম্পদে ব্যাংক তার অংশ গ্রাহকের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাড়া দেয়। তৃতীয়তঃ ব্যাংক তার অংশ কিস্তিতে বা এককালীন নির্ধারিত মূল্যে ভাড়াকালীন সময়ব্যাপী বা ভাড়া চুক্তির শেষে গ্রাহকের কাছে বিক্রি ও হস্তান্তর করে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ম্যানুয়েলে ‘হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক’ সম্পর্কে বলা হয়েছে । এ পদ্ধতিতে ব্যাংক ও গ্রাহক চুক্তির ভিত্তিতে যৌথভাবে যানবাহন, মেশিন ও যন্ত্রপাতি, ভবন, এপার্টমেন্ট ইত্যাদি ক্রয় করে। গ্রাহক তাড়ার ভিত্তিতে তা ব্যবহার করেন এবং ব্যাংকের অংশের মূল্য কিত্তিতে পরিশোধ করে পর্যায়ক্রমে তার মালিকানা অর্জন করেন। পণ্য বা মালামাল ক্রয়ের আগে এর প্রকৃত মূল্য, মাসিক ভাড়া, ব্যাংকের অংশের মূল্য, পরিশোধের সময়সীমা ও কিস্তির পরিমাণ এবং জামানতের প্রকৃতি প্রভৃতি নির্ধারণ করে চুক্তি সম্পাদিত হয়। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো ব্যাংক এই বিনিয়োগপদ্ধতিকে ‘হায়ার পারচেজ আভার শিরকাতুল মিলক’ বা ‘HPSM’ হিসেবে অভিহিত করে। তবে এক্সিম ব্যাংকে এ পদ্ধতির নাম ‘ইজারা বিল বাই’ বা ‘IBB’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি ‘আল ইজারা আল মুনতাহিয়াতু বিত্‌ তামলীক’ বা ljarah Muntabia Bittamleek হিসেবে পরিচিত।

হায়ার পারচেজ আভার শিরকাতুল মিল্‌ক-এর বৈশিষ্ট্য

১)গ্রাহক তার চাহিদা অনুযায়ী কোন নির্দিষ্ট সম্পদ কেনার ইচ্ছা জানিয়ে ব্যাংকের কাছে আবেদন করেন। ব্যাংকের মঞ্জুরি লাভের পর গ্রাহক তার অংশের পুঁজি বা ইক্যুইটি ব্যাংকে জমা করেন। গ্রাহকের এই টাকার সাথে ব্যাংক তার অংশের টাকা যোগ করে সম্পদের পুরো দাম পরিশোধ করে।

২)এরূপ সম্পদ কেনার আগে মোট দাম, মাসিক ভাড়া, ব্যাংকের অংশ, পরিশোধের সময়সীমা ও কিস্তির পরিমাণ, জামানতের ধরন প্রভৃতি নির্ধারণ করে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়।

৩)ব্যাংক যৌথ মালিকানাধীন এ সম্পদে তার নিজের অংশটি গ্রাহকের কাছে চুক্তির শর্ত অনুসারে ভাড়া দেয়।

৪)গ্রাহক নির্ধারিত ভাড়া ও ব্যাংকের অংশের মূল টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেন।

৫)গ্রাহকের কিস্তি পরিশোধের ফলে সম্পদে ব্যাংকের মালিকানার অংশ কমতে থাকে । গ্রাহকের মালিকানা সে অনুপাতে বাড়তে থাকে।

৬)গ্রাহকের মালিকানা বাড়ার সাথে সাথে ব্যাংকের প্রাপ্য ভাড়ার পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমে আসে।

৭)সম্পদে ব্যাংকের অংশের মূল্য পুরো শোধ হলে গ্রাহক তাতে পূর্ণ মালিকানা লাভ করেন।

৮)মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ব্যাংকের অংশের পুরো দাম শোধ করে গ্রাহক সম্পদের পূর্ণ মালিকানা পেতে পারেন ।

,৯) গ্রাহক নির্ধারিত কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের মালিকানার অনুপাত অনুযায়ী ভাড়া অব্যাহত থাকে।

১০)চুক্তির শর্ত পালনে গ্রাহক ব্যর্থ হলে ব্যাংক সম্পদ নিজ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।

১১)ভাড়া হিসেবে পাওয়া অর্থ ব্যাংকের আয়। ভাড়ার টাকা মালিকানার অংশের সাথে যুক্ত নয়।

মোহাইমিন সাহেব “হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক” পদ্ধতিটির সম্পুর্ণ ভুল ও একপেশে ব্যাখ্যা দিয়েছে। ভাড়ার হার নির্ধারনে শরিয়ত কোন সীমারেখা দেয়নি।আপনি যে কোন প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটে থাকলে মার্কেট স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতেই হবে।আধুনিক বাজার ব্যবস্থায় আপনি ইচ্ছা করলেই এমন RR ফিক্সড করতে পারবেন না যা বাজারকে আপনার পক্ষে নিয়ে আসে।You can’t be monopolistic approach nor you can disable the pricing of Market.এগুলো ব্যবসায়ের Ethics.দ্বিতীয়তঃ ইসলামী ব্যাংক ইনসাফ করতে বসেছে,জুলুম করতে নয়। একজন আমানতকারী ব্যাংকে ব্যবসা শেষে কিছু লাভ পাওয়ার আশায় বিনিয়োগ বা সঞ্চয় করেছে, আর আপনি ক্রমাগত লসের ফর্মূলায় গেলেন,এটা কি যুক্তিযুক্ত ?

আপনি বলছেন,HPSM প্রচলিত ব্যাংকের সুদের মতো? কোন বুঝে ? শুধুমাত্র ভাড়া খাবার কারণে ? ভাড়ার রবারের সাদৃশ্য থাকার কারণে? বুঝে বলুন।ইহজগতে বহু বস্তই অন্য অনেক বস্তর মতো দেখা যায়। এমন সাদৃশ্য থাকলেই দুটো একই প্রজাতির বলা যায় কি ? বড় বোয়াল মাছ আর পাবদা মাছ দেখতে এক বলে কি পাবদা বোয়ালের বাচ্চা ? এক মায়ের দুই জমজ ভাই চেহারা ও কথাবার্তায় এক হলেও দু’জনের চরিত্র কি এক ?

@জামান

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..