বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড ভাঙতে পারেন মেসি-রোনালদো-এমবাপে-কোর্তোয়ারা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে বরাবরের মতোই এবারও নজর থাকবে নতুন নতুন রেকর্ডের দিকে। আসন্ন আসরে থিবো কোর্তোয়া, দিদিয়ের দেশম, হ্যারি কেইন, লুকা মদ্রিচ, লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের সামনে সুযোগ থাকছে পুরনো বেশ কিছু কীর্তি ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে কোন রেকর্ডগুলো ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ

বর্তমান রেকর্ড: অটো রেহাগেল (৭১ বছর)

যার সামনে সুযোগ: ডিক অ্যাডভোক্যাট (৭৮ বছর)

২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গ্রিসের কোচের দায়িত্ব পালন করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন ‘কিং অটো’ খ্যাত রেহাগেল। আগামী ১৪ জুন হিউস্টনে কুরাসাওয়ের কোচ হিসেবে জার্মানির বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়ালেই এই রেকর্ড ভেঙে দেবেন ৭৮ বছর বয়সী অ্যাডভোক্যাট। এছাড়া, বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক ও দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস— উভয়েরই বয়স এখন ৭৪ বছর।

নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা

বর্তমান রেকর্ড: পেপে (৩৯ বছর)

যাদের সামনে সুযোগ: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর), লুকা মদ্রিচ (৪০ বছর) ও এদিন জেকো (৪০ বছর)

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো তার দীর্ঘদিনের পর্তুগিজ সতীর্থ পেপেকে ‘ভাই’ বলে ডাকলেও এই রেকর্ডের মুকুটটি তিনি নিজের করেই নিতে চাইবেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ৪১ বছরে পা দিয়েছেন রোনালদো। এছাড়া, গত সেপ্টেম্বরে ৪০তম জন্মদিন পালন করা মদ্রিচ এবং গত মার্চে ৪০ বছরে পা দেওয়া বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার স্ট্রাইকার জেকোর সামনেও থাকছে পেপেকে টপকে যাওয়ার সুযোগ।

কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

বর্তমান রেকর্ড: হেলমুট শুন (২৫টি)

যার সামনে সুযোগ: দিদিয়ের দেশম (১৯টি)

৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছিলেন শুন। এবার ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারলেই এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন ফরাসি কোচ দেশম। আর দলটি সেমিফাইনালে গেলে রেকর্ডটি পুরোপুরি তার নিজের হয়ে যাবে। তাছাড়া, বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়তে দেশমের দরকার আর মাত্র তিনটি জয়।

সবচেয়ে কম বয়সী গোল্ডেন বল জয়ী

বর্তমান রেকর্ড: রোনালদো (২১ বছর)

যাদের সামনে সুযোগ: একাধিক খেলোয়াড়

বিশ্বকাপের প্রতি আসরের সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কার হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ দেওয়া হয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনটি অ্যাসিস্ট ও চারটি গোল করে যখন এই পুরস্কারটি জিতেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। এবার তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে, আর্জেন্টিনার নিকো পাজ ও স্পেনের ইয়ামালের মতো তরুণ প্রতিভাদের সামনে।

খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়

বর্তমান রেকর্ড: মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৭টি)

যার সামনে সুযোগ: লিওনেল মেসি (১৬টি)

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা ২০১৪ সালে ব্রাজিলের কাফুকে টপকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি নিজের করে নেন। তবে এবার গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া অথবা জর্ডানের বিপক্ষে জিতলেই রেকর্ডটি আবার দক্ষিণ আমেরিকার হয়ে পুনরুদ্ধার করতে পারবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।

সবচেয়ে বেশি গোল

বর্তমান রেকর্ড: মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬টি)

যাদের সামনে সুযোগ: লিওনেল মেসি (১৩টি) ও কিলিয়ান এমবাপে (১২টি)

২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাটিতেই তাদের কিংবদন্তি রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন ক্লোসা। তবে তার ১৬ গোলের রেকর্ডটি এবার হুমকির মুখে। মেসির গোল সংখ্যা ১৩টি। এমবাপে মাত্র এক গোল পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে নিজের শেষ ১১ ম্যাচে তিনি ১১টি গোল করেছেন। তাছাড়া, বিশ্বকাপে আটটি করে গোল থাকা কেইন বা রোনালদোর সামনেও বড় কোনো চমক দেখিয়ে শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ থাকছে।

সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট (গোল না খাওয়া ম্যাচ)

বর্তমান রেকর্ড: পিটার শিলটন ও ফাবিয়েন বার্থেজ (১০টি)

যার সামনে সুযোগ: থিবো কোর্তোয়া (৭টি)

ইংলিশ কিংবদন্তি শিলটন ১৯৯০ সাল থেকে এই রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন। আর ২০০৬ সাল থেকে সেখানে ভাগ বসিয়েছেন ফরাসি তারকা বার্থেজ। এবার ‘জি’ গ্রুপে মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না খেয়ে এই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ থাকছে বেলজিয়ামের ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার গোলরক্ষক কোর্তোয়ার। বিশ্বকাপে ১৫ ম্যাচ খেলা কোর্তোয়া গোলরক্ষক হিসেবে উগো লরিসের গড়া সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছোঁয়া থেকেও মাত্র ৫ ম্যাচ দূরে আছেন।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি গোল

বর্তমান রেকর্ড: রিভেলিনো (৫টি)

যার সামনে সুযোগ: লিওনেল মেসি (৪টি)

দূরপাল্লার শটে দারুণ দক্ষ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিভেলিনো বিশ্বকাপে ডি-বক্সের বাইরে থেকে পাঁচটি দর্শনীয় গোল করেছিলেন। অন্যদিকে, মেসি ২০১৪ সালে তিনটি (বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ইরান ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে) এবং ২০২২ সালে একটি (মেক্সিকোর বিপক্ষে) গোল করেছেন ডি-বক্সের বাইরে থেকে। এবার আর দুটি দূরপাল্লার গোল করলেই তিনি রিভেলিনোকে ছাড়িয়ে যাবেন।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে খেলা

বর্তমান রেকর্ড: আন্তোনিও কারভাহাল, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, রাফায়েল মার্কেজ, লোথার ম্যাথাউস, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (৫টি বিশ্বকাপ)।

যাদের সামনে সুযোগ: লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (৬টি বিশ্বকাপ)।

এবারের আসরে মাঠে নামলেই বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথমবারের মতো ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়বেন দুই মহাতারকা মেসি ও রোনালদো।

সবচেয়ে বেশি ফাইনালে খেলা

বর্তমান রেকর্ড: কাফু (৩টি)

যাদের সামনে সুযোগ: কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসি (২টি)

১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিলেন ব্রাজিলের কাফু। তার স্বদেশি পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতলেও ১৯৬২ সালের ফাইনালে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। মেসি ২০১৪ ও ২০২২ সালের ফাইনালে এবং এমবাপে গত দুই আসরের ফাইনালে খেলেছেন। এবার ফাইনালে উঠলে তারা কাফুর রেকর্ডে ভাগ বসাবেন। পাশাপাশি, ১২ বছরের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে পেলের (১৯৫৮ ও ১৯৭০ সালের) কীর্তিও ছুঁতে পারেন মেসি।

সবচেয়ে বেশি আসরে হ্যাটট্রিক

বর্তমান রেকর্ড: গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (২টি আসরে)

যাদের সামনে সুযোগ: হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে, গনসালো রামোস ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১টি আসরে)

আর্জেন্টিনার ‘বাতিগোল’ খ্যাত বাতিস্তুতার রেকর্ডে ভাগ বসাতে বাকি চারজন খেলোয়াড়েরই আর মাত্র একটি করে হ্যাটট্রিক প্রয়োজন। এমবাপে যদি আগামী ১৭ জুন টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে তিনি টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার বিরল কীর্তিও গড়বেন।

Related Articles

Latest Posts