ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে ফুটবল বিশ্ব বহুবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বয়স যখন অন্যদের ধীর করে দেয়, তখন যেন আরও একবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন রোনালদো। তাই ৪১ বছর বয়সেও তার নামের পাশে যখন গোলের পর গোল যোগ হচ্ছে, তখন ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে দেখার স্বপ্নটাও আর পুরোপুরি অবাস্তব মনে হচ্ছে না।
বরং সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার এরিক জেম্বা-জেম্বা বিশ্বাস করেন, রোনালদো শুধু ২০৩০ বিশ্বকাপেই খেলবেন না, তিনি হয়তো সেই মঞ্চে নিজের ছেলে ক্রিস্তিয়ানো জুনিয়রের পাশেও দাঁড়াতে পারেন।
এই গ্রীষ্মে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন আল-নাসরের এই তারকা। অধিকাংশ ফুটবলারের জন্য এই বয়সে অবসর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, কিন্তু রোনালদো এখনও যেন অন্য ছন্দে হাঁটছেন। চলতি মৌসুমে ৩৭ ম্যাচে ৩০ গোল করে আল-নাসরকে সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি।
জেম্বা-জেম্বার কাছে তাই রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার কোনো বিস্ময় নয়। বেটভিক্টরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি ক্রিস্টিয়ানো ৪৪ কিংবা ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে পারবে। আমি মোটেও অবাক নই, কারণ আমি তাকে ১৭ বছর বয়স থেকেই দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের অনুশীলনেই বোঝা যেত রোনালদো অন্যরকম একজন মানুষ। ‘আমরা প্রতিদিন একসঙ্গে অনুশীলন করতাম। অনুশীলন শেষ হওয়ার পরও সে আরও বেশি কিছু করতে চাইত। নিজেকে উন্নত করা আর প্রতিযোগিতা করার প্রতি তার এক ধরনের নেশা আছে। ফুটবলে আমি এমন মানসিকতা আর কখনও দেখিনি।’
২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে রোমাঞ্চ আরও বেড়ে যায় একটি বিশেষ কারণে। সেই আসরের অন্যতম আয়োজক দেশ হবে পর্তুগাল। নিজের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ তাই রোনালদোর জন্য এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
জেম্বা-জেম্বার মতে, যদি তখনও রোনালদো খেলতে থাকেন, তাহলে তাকে অবশ্যই পর্তুগাল দলে রাখা উচিত। তবে সবচেয়ে কাব্যিক সম্ভাবনা হয়তো অন্য জায়গায়। সেটি হলো বাবা ও ছেলের একসঙ্গে মাঠে নামা।
১৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র ইতোমধ্যেই আল-নাসরের একাডেমিতে নজর কাড়ছেন। সম্প্রতি তাকে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেও জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলও করে ফেলেছে সে।
জেম্বা-জেম্বা মনে করেন, এই দৃশ্য ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। ‘এটা তার ক্যারিয়ারের নিখুঁত সমাপ্তি হবে এবং পর্তুগিজ ফুটবলের জন্যও অসাধারণ এক মুহূর্ত,’ বলেন তিনি।
‘ভাবুন তো, যদি ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রও সেখানে থাকে! সেটা অবিশ্বাস্য হবে। অবশ্যই তার বাবার পর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন, কারণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অন্য গ্রহের একজন মানুষ। কিন্তু তারপরও এটা হবে দারুণ সুন্দর একটি গল্প,’ যোগ করেন জেম্বা জেম্বা।
