ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মসজিদ ও খোলা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় এ দিন পশু কোরবানি দেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা।
মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি পরম আনুগত্যের এই নিদর্শন ও স্মৃতিকে স্মরণ করে প্রতি বছর কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় অনুপ্রাণিত হন মুসলমানরা।
কোরবানির পশুর মাংস গরিব ও অসহায় মানুষ, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়।
আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স, এএফপি, আনাদলু এজেন্সিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে দেশে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপনের খবর।
রয়টার্স জানায়, এ বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদযাপিত হয়েছে দিনটি।
যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত গাজায় এবার ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান ছিল। সংঘাতের কারণে অনেকেই কোরবানি ও হজ পালনের সুযোগ পাননি।
গ্যাস সংকটে শরণার্থী শিবিরের অধিকাংশ তাঁবুতে রান্নাই করতে পারেননি গাজার বাসিন্দারা। সপরিবারে বাস্তুচ্যুত ৪২ বছর বয়সী আবু আহমেদ ওয়াফি এএফপিকে বলেন, ‘এক সময়কার চেনা সুখের কিছুই এখন আর নেই। এই তাঁবুতে আনন্দের কোনো পরিবেশ নেই, আছে শুধু দুশ্চিন্তা, ভয় আর ক্লান্তি।’
অনেকেই এ দিন যুদ্ধে প্রাণ হারানো প্রিয়জনের স্মরণে কবর জিয়ারত করেন।
পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে ইব্রাহিমি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে ভোর থেকেই ভিড় করেন মুসল্লিরা। ইসলামী ওয়াকফ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। যদিও নগরীজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ লেবাননেও ছিল শোকের ছায়া। এ দিন সকালেই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের হাওরা জয়নাব কবরস্থানে অনেকেই প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে দেখা যায়।
ইয়েমেনেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে এ দিন মানুষের মাঝে আনন্দকে ছাপিয়ে জায়গা করে নেয় প্রিয়জন হারানো বেদনা।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আহমদ খাতামির ইমামতিতে ঈদের নামাজে অংশ নেন অনেকে। বেশ কিছু সামরিক কর্মকর্তাও এখানে নামাজ আদায় করেছেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের হাগিয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ ও সুলতান আহমেদ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ দিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। অধিকাংশ মসজিদে জায়গা না হওয়ায় মানুষজন রেলস্টেশন, রাস্তা ও সমুদ্রের তীরে খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ডন এর দেওয়া ছবিতে বিভিন্ন দেশের ঈদুল আজহা উদযাপনের ছবি।
