পোল্যান্ডে আরও পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
পেন্টাগন চার হাজার সেনা পাঠানোর পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত বাতিল করার এক সপ্তাহ পর তিনি এই নতুন ঘোষণা দিলেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্কের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের নির্বাচনে ট্রাম্প নাভরোকিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে এই বাড়তি সেনা মোতায়েন আগের স্থগিত হওয়া মিশনের অংশ কি না, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়ে আসছে যে, তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে তারা ইউরোপে সামগ্রিক মার্কিন সেনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে চায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে জার্মানি থেকেও পাঁচ হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্প এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মধ্যে তৈরি হওয়া তিক্ত সম্পর্কের জেরে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে, ইরানি আলোচকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হয়েছে—মের্ৎসের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে পোল্যান্ডে পাঠানো এই অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সেনা জার্মানি থেকে সরিয়ে নেওয়া সেনাদলেরই অংশ কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে চাপে রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের ন্যাটো মিত্ররা সহযোগিতা করতে আগ্রহী না হওয়ায় ট্রাম্প তাদের ওপর ক্ষুব্ধ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার সুইডেনে ন্যাটো দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত থাকবেন।
আশা করা হচ্ছে, রুবিও ন্যাটো অংশীদারদের প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ভার আরও বেশি বহন করার আহ্বান জানাবেন।
সম্মেলনের আগে বিবিসি তার কাছে জানতে চায়, কোনো ন্যাটো সদস্য দেশ হামলার শিকার হলে সেখানে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমিয়ে ফেলার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্য কী।
জবাবে রুবিও জানান, সম্মেলনে এই ধরনের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ওপর অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ।
পোল্যান্ডে চার হাজার সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিলের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, সেনা মোতায়েন বাতিল করা হয়নি বরং তা ‘সাময়িকভাবে পিছিয়ে’ দেওয়া হয়েছে।
পোল্যান্ডে আমেরিকা যে একটি ‘শক্তিশালী সামরিক অবস্থান’ ধরে রাখবে, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
প্রেসিডেন্ট নাভরোকি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থক এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
গত জানুয়ারিতে একটি সাক্ষাৎকারে পোলিশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ভ্লাদিমির পুতিনকে থামানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষমতা কেবল ট্রাম্পেরই আছে।
ন্যাটোর সমালোচনা করা সত্ত্বেও নাভরোকি মনে করেন, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান জামিনদার হলো যুক্তরাষ্ট্র।
তবে জার্মানি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও। তাদের মতে, এর ফলে রাশিয়ার কাছে ভুল বার্তা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে—যার সংখ্যা ৩৬ হাজারেরও বেশি। এর তুলনায় ইতালিতে ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

