চোট শঙ্কা ও নানান আলোচনা পেরিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিলেও নেইমারকে ঘিরে উৎকন্ঠা যেন কাটছে না। চোট শঙ্কায় বুধবার দলের প্রথম অনুশীলন সেশনেই নামতে পারেননি তিনি। চোটের কী অবস্থা, তা জানতে তাকে যেতে হয়েছে চিকিৎসকদের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, ডান পায়ের কাফের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গ্রানজা কোমারিতে দলের রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে ছিলেন না। চোটের গভীরতা বুঝতে তাকে তেরেসোপোলিসের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে এক্স-রে বা স্ক্যান করানোর জন্য।
সিবিএফ অবশ্য এক বিবৃতিতে পরিষ্কার বলেছে, ‘জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফদের পুরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য দেওয়া হবে না।’ তবে সিবিএফ চুপ থাকলেও আলোচনা থামানো যাচ্ছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনেই নেইমারের এই অনুপস্থিতি এখন ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় খবর।
আগামী রবিবারে মারাকানায় পানামার সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। তার আগে গ্রানজা কোমারিতে আরও তিনটি অনুশীলন সেশন করার কথা রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এমনিতে সেই ম্যাচে তিন জন তারকা খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দুই ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনহোস এবং ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি আগামী শনিবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও প্যারিস সেন্ট-জার্মেই।
গত সপ্তাহে যখন নেইমারকে দলে ডাকা হয়, তখন সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম এক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কারণ এই ইতালিয়ান কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নেইমারের জায়গা হচ্ছিল না।
জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা নেইমার ২০২৩ সালের পর থেকে দেশের জার্সিতে খেলেননি। বছরের পর বছর চোটের আঘাত আর সান্তোসে ফেরার পর চেনা ছন্দে না থাকায় তার ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। সেই সব সমালোচনাকে পাশ কাটিয়েই এবার দলে ফিরেছিলেন তিনি।
কিন্তু ফেরার আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে পারে এই চোটের কারণে। আর সময়টাও ব্রাজিলের জন্য বড্ড কঠিন। পানামা ম্যাচের পর ক্লিভল্যান্ডে শেষ প্রীতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা। এরপরই আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘সি’-তে সেলেসাওদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
মে মাসের শুরুতে রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কোচ আনচেলত্তি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, অতীত কীর্তি বা কেবল সুনামের জোরে নেইমারের জায়গা নিশ্চিত হবে না।
আবেগের কোনো জায়গা নেই জানিয়ে কোচ বলেছিলেন, নেইমারকে দলে আলাদা কোনো খাতির করা হবে না। স্কোয়াডে জায়গা পেতে হলে তাঁকে পুরোপুরি ফিট হতে হবে এবং চেনা ফর্মে ফিরতে হবে।
আপাতত ব্রাজিল দল সাগ্রহে তাকিয়ে আছে মেডিকেল রিপোর্টের দিকে। আর কোটি ফুটবলপ্রেমী অপেক্ষায় আছেন একটাই প্রার্থনায়—আগামী মাসে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে তাদের প্রিয় তারকা চেনা জাদুতে মাঠ মাতাতে পারবেন তো?
