বাংলাদেশ-ভারতের জন্য নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা প্রয়োজন: প্রণয় ভার্মা

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশ দুটির সক্ষমতা, আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

চার বছর দায়িত্বপালন শেষে আজ রোববার ঢাকা ত্যাগের আগে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিদায়ী বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘এ অঞ্চলের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আমাদের দুই দেশকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে আঞ্চলিককরণের চালিকাশক্তি হতে হবে।’

প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনে যোগ দেন। দায়িত্বকালে তিনি আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন।

ভারত সরকার সম্প্রতি তাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

বিদায়ের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় প্রণয় ভার্মা দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ ও যৌথ উন্নতির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভারতের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অবদানের জন্য প্রণয় ভার্মাকে ধন্যবাদ জানান এবং তার পরবর্তী কর্মস্থলের জন্য শুভকামনা জানান।

তারা দুই দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

বিদায়ী বার্তায় প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এই সম্পর্কটি কতটা বিশেষ ও অনন্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, ভাষা ও ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল এমন, যা অন্য যেকোনো দুই দেশের মধ্যে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আরও গভীরভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের যৌথ আত্মত্যাগের মাধ্যমেও আমাদের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মূলত গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও আন্তঃসংযোগের একটি সম্পর্ক। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ যেমন ভারতের স্বার্থে প্রয়োজন, ঠিক তেমনি একটি সমৃদ্ধ ভারতও বাংলাদেশের স্বার্থে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

দুই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আবেগের সংযোগের বাস্তবতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও কল্যাণ আগামী দিনেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পথ দেখাবে এবং এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।’

‘যেহেতু বর্তমান সময়টা আমাদের অতীতের তুলনায় পাল্টে গেছে, তাই আমি বিশ্বাস করি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন, ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা প্রয়োজন, যা আমাদের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ দ্বারা চালিত হবে। এই রূপরেখা পারস্পরিক স্বার্থ, কল্যাণ ও শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে,’ বলেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts