সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বাড়িতে মিললো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-বৈদেশিক মুদ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। প্রতিটি সংস্থার কাজ ও এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট আকারে নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। সাধারণত এফবিআই, সিআই ও এনএসএর মতো সংস্থাগুলো নিরপেক্ষভাবে নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকে। তবে কখনো কখনো এক সংস্থা অপর সংস্থার মুখোমুখি হয়ে পড়ে। 

সম্প্রতি এরকম এক ঘটনায় ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সাবেক জ্যেষ্ঠ সিআই কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালায় এফবিআই এজেন্টরা।

ডেভিড রাশ নামের ওই জ্যেষ্ঠ সিআই কর্মকর্তার বাড়িতে ৩০৩টি স্বর্ণের বার খুঁজে পায় এফবিআই। 

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

স্বর্ণের বারগুলোর মোট মূল্যমান ৪০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৯২ কোটি)। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ডেভিড রাশ কাজের খরচ বাবদ সরকারের কাছ থেকে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা জোগাড় করেন। 

তার বিরুদ্ধে জনগণের অর্থ চুরির ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। 

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিছুদিন আগেও সিআইএ’র জ্যেষ্ঠ পদে ছিলেন রাশ। 

ইতোমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সপ্তাহেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি হবে আদালতে। 

এ বিষয়ে ডেভিড রাশের আইনজীবী কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। 

বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পাশাপাশি এফবিআই ডেভিড রাশের বাড়ি থেকে প্রায় দুই মিলিয়ন মার্কিন মুদ্রা ও ৩৫টি বিলাসবহুল ঘড়ি খুঁজে পায়। ঘড়িগুলোর বেশিরভাগই রোলেক্স ব্র্যান্ডের 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামরিক বাহিনীতে সেবার ভুল তথ্য দিয়েছিলেন রাশ।  

পাশাপাশি, প্রতারণার মাধ্যমে হাজারো ডলার অর্থ নিয়ে ‘সামরিক ছুটি’ কাটিয়েছেন রাশ। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে বেশ কিছু সুবিধা পেতেন রাশ। ‘টপ সিক্রেট ক্লিয়ারেন্স’, থাকায় সব ধরনের সরকারি নথি তার হাতের নাগালে ছিল। 

এফবিআই রাশকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে। এক লিখিত বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ১৯ মে সিআইএর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। 

এফবিআই জানায়, ‘সিআইএর অভ্যন্তরীণ তদন্তে আইনভঙ্গের একটি ঘটনা উন্মোচিত হয়। এরপর সিআইএ’র পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এ বিষয়ে এফবিআইকে যথাযথ আইন প্রয়োগ ও এ সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনার জন্য তথ্য দেন।’

২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে ‘কার্যক্রম পরিচালনার’ খরচ হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও লাখো ডলার মূল্যের স্বর্ণের বার চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান। 

পরবর্তীতে ওই অর্থ আর স্বর্ণের বার পেয়েও যান তিনি। 

বছর শেষে সিআইএর অডিট কার্যক্রম চলাকালে হিসাবে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। 

সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণের বার ও বৈদেশিক মুদ্রা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। 

কীভাবে এই অর্থ ও স্বর্ণের মুদ্রা খরচ হয়েছে, বা সুনির্দিষ্ট করে কোন কাজের জন্য ডেভিড রাশ এগুলো নিয়েছেন, সে বিষয়ে সরকার কোনো তথ্য খুঁজে পায়নি। 

এরপর রাশের বাড়িতে তল্লাশির জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করে এফবিআই। 

১৮ মে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে রাশের বাড়িতে এফবিআই অভিযান চালায়। 

তল্লাশির সময় এফবিআই এজেন্টরা ৩০৩টি স্বর্ণের বার জব্দ করে। প্রতিটির ওজন প্রায় এক কেজির সমান। 

স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী এই সম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।  

রাশ কেন নিজের বাড়িতে স্বর্ণ ও মুদ্রা রেখেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়নি। 

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিআইএ’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তবে এখনো সংস্থাটি কোনো জবাব দেয়নি।  

Related Articles

Latest Posts