বিশ্বকাপ মিশনের আগে এর চেয়ে নিখুঁত প্রস্তুতি আর হতে পারত না। গ্যালারিবোঝাই দর্শক আর গোল উৎসবের রাতে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে নামার আগে বিদায়ী ম্যাচটি রাঙিয়ে রাখল ব্রাজিল। মারাকানা স্টেডিয়ামে ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে আক্রমণাত্মক ফুটবলের দারুণ প্রদর্শনীতে পানামাকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেলেসাওরা।
ঘরের মাঠে এই বড় জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে আগামী ৬ জুন মিশরের মুখোমুখি হতে দেশ ছাড়বে কার্লো আনচেলত্তির দল। ক্লেভল্যান্ডের হান্টিংটন ব্যাংক ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচটি।
বিদায়ী এই প্রীতি ম্যাচে মূলত দুটি ভিন্ন ব্রাজিল দলকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন দর্শকেরা। দুই দলের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একাদশের ১০ জন খেলোয়াড়ই বদলে ফেলেন কোচ আনচেলত্তি। স্কোয়াডের সবাইকে মাঠে নামানোর এই পরীক্ষামূলক ম্যাচে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পুরো ৯০ মিনিট খেলেন সেন্টার ব্যাক লিও পেরেইরা।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই প্রতিপক্ষের ওপর চেপে বসে ব্রাজিলের শক্তিশালী মিডফিল্ড। নিজেদের অর্ধে পানামার রক্ষণভাগ বল জোগানোর সময় ভুল করলে ক্ষীপ্রতার সঙ্গে তা কেড়ে নেন কাসেমিরো। তার বাড়ানো বল ধরে কিছুটা এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট নেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ২৩ মিটার দূর থেকে নেওয়া সেই বুলেট গতির শট ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না পানামা গোলরক্ষক মসকুয়েরার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
খেলার নিয়ন্ত্রণ ব্রাজিলের হাতে থাকলেও, ম্যাচের ১২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরে পানামা। মুরিলোর নেওয়া শটটি ব্রাজিলের রক্ষণভাগের দেওয়ালে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
তবে এই গোল হজম করেও খেই হারায়নি আনচেলত্তির শিষ্যরা। ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস ও রাফিনহার দুর্দান্ত এক ওয়ান-টু-ওয়ান কম্বিনেশনে আবারও এগিয়ে যেতে পারত দল। ভিনির পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েও ১১ নম্বর জার্সিধারী রাফিনহার নেওয়া শটটি জালের বাইরের অংশে লাগে।
অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ফাঁকায় থাকা ভিনিসিয়াসকে খুঁজে নেন অ্যালেক্স সান্দ্রো। বল পেয়ে একক দক্ষতায় পানামার দুজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে নিচু ক্রস নেন ভিনি। পোস্টের সামনে সতর্ক থাকা কাসেমিরো আলতো হেডে বল জাল পাঠান। অফিশিয়ালরা ভিডিও রিভিউ দেখে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
৪২ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনহা। ম্যাথিউস কুনিয়া, ভিনিসিয়াস ও ব্রুনো গিমারায়েসের চমৎকার পাসিং থেকে বল পেয়েও তার নেওয়া শটটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে নতুন একাদশের গোল উৎসব
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চুক্তি অনুযায়ী ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে মাঠে সম্পূর্ণ নতুন এক দল নামান আনচেলত্তি। কেবল লিও পেরেইরা মাঠেই থেকে যান।
কোচের এই ‘নতুন’ দলটিও পানামার ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে কোনো ভুল করেনি। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ব্রাজিলের হাই-প্রেসের মুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন পানামা গোলরক্ষক মসকুয়েরা। বল পেয়ে যান ফরোয়ার্ড রায়ান। বক্সের বাইরে ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শটে আরও এক দর্শনীয় গোল পায় ব্রাজিল।
খেলার ৫৯ মিনিটে ব্যবধান ৪-১ করেন লুকাস পাকেতা। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের চমৎকার বোঝাপড়ায় গোলটি আসে। এর ঠিক মিনিট চারেক পর পেনাল্টি থেকে স্পট-কিকে সেলেসাওদের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন ইগর থিয়াগো।
ম্যাচের শেষ দিকে পাকেতার ডিফেন্স-চেরা পাস ধরে বক্সে ঢুকে বোটফোগোর মিডফিল্ডার দানিলোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ষষ্ঠ গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। তবে খেলা শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে হার্ভির গোলে পানামা ব্যবধান কিছুটা কমালে ৬-২ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
