যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, হামলা রুখে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের কেশম দ্বীপে আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলাও চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বলেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদরদপ্তর এবং অঞ্চলের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অবশ্য সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালালেও কোনোটিই সফল হয়নি।

মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কুয়েত লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে বিকল হয়ে যায় এবং বাহরাইনের দিকে আসা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করে।

এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।

পরে সেন্টকম আরও জানায়, কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ড্রোন হামলার আরও এক দফা চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে চালানো তিনটি ইরানি ড্রোনও মার্কিন বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কেশম দ্বীপের অবস্থান। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথ এই প্রণালি।

গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, তারা কেশম দ্বীপে ইরানের একটি ‘সামরিক স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সদস্য হতাহত হননি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, তারা কেশম দ্বীপে হামলার জবাবে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।

তবে সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের প্রতিটি হামলা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ীভাবে সংঘাত নিরসনের আলোচনা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।

গতকাল সোমবার তেহরান সতর্ক করে বলেছে যে, লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এই যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে, মার্কিন অবরোধ অমান্য করে একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টাকালে একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটি অকেজো করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধ লঙ্ঘন করার দায়ে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি জাহাজকে জোরপূর্বক থামিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

Related Articles

Latest Posts