ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শবনম। বহু আগেই বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। রূপালি পর্দায় তার মিষ্টি হাসি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তার অভিনীত অনেক সিনেমার গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা এবং বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিন দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এরপর অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে।
পাকিস্তানেও করেছেন বহু সিনেমা। সেখানে তিনি ১৩ বার পেয়েছেন নিগার পুরস্কার।
একসময়কার এই সাড়া জাগানো ও সফল অভিনেত্রী এবার পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।
গত ২ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেখানে আজীবন সম্মাননা বিভাগের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে শবনমের নাম।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে শবনম বলেন, ‘বলে বোঝানোর মতো নয়। জীবনে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, কিছু কিছু সময় আসে, যখন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমারও তেমনই হচ্ছে। খবরটি শোনার পর আমি আসলে ঠিকমতো বলে বোঝাতে পারছি না।’
‘তবে আমি আনন্দিত। সত্যিই আনন্দিত। খুব ভালো লাগছে। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে আমার ভেতরে’ যোগ করেন তিনি।
শবনম আরও বলেন, ‘আমি খুশি, ভীষণ খুশি। জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি বলেই বেশি খুশি। অনেকেই তো মারা যাওয়ার পর এমন সম্মান পান। সেখানে আমি জীবিত অবস্থায় পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।’
‘এই ভালো লাগা অন্যরকম। সারাজীবন সিনেমায় অভিনয় করেছি। জীবনের অনেকটা সময় সিনেমাকে দিয়েছি। মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন—শিল্পী হিসেবেই। শিল্পী পরিচয়টাই সবচেয়ে বড়। সেই সিনেমার জন্যই যখন সবচেয়ে বড় সম্মাননা পাচ্ছি, তখন ভালো তো লাগবেই’, বলেন শবনম।
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শবনম বলেন, ‘আমি খুব একটা ভালো নেই। রক্তচাপ ওঠানামা করছে। তারপরও যতটুকু ভালো আছি, সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত আম্মাজান চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেন শবনম। ওই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি অভাবনীয় সাড়া পান।
এ প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘কোথাও গেলে এখনো কেউ কেউ আমাকে আম্মাজান বলে ডাকেন। ভীষণ সম্মান করেন। এটাই তো একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পাওয়া। এভাবেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’
