‘টাইমড আউট’ বিতর্কে ক্ষমা চাইল নেপাল

নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ‘টাইমড আউট’ আউটের ঘটনা ঘটানোর পর ক্ষমা চেয়েছে নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি ক্রিকেটের আইনের মধ্যে থাকলেও খেলাটির যে চেতনা তারা ধারণ করতে চায়, এর সঙ্গে সেটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মালয়েশিয়ার মানতিনে অনুষ্ঠিত এসিসি নারী প্রিমিয়ার কাপের ম্যাচে ভুটানের ব্যাটার রিতশি চোডেন ‘টাইমড আউট’ হন। ম্যাচের প্রথম বলেই ওপেনার ঙ্গাওয়াং চোডেন আউট হওয়ার পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামার কথা ছিল তার। তবে আগের উইকেট পতনের দুই মিনিটের মধ্যে তিনি ক্রিজে পৌঁছাতে না পারায় নেপালের খেলোয়াড়রা আউটের আবেদন করেন।

আম্পায়ার সেই আবেদন গ্রহণ করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল এই দৃশ্যের সাক্ষী হয় ম্যাচটি। প্রথম বলের পরই কোনো রান না তুলেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভুটান। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ৬২ রান করতে পারে। ফলে গ্রুপ ‘ডি’তে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় নেপাল।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ‘আজকের ম্যাচে ভুটানের একজন ব্যাটারের টাইমড আউট হওয়ার ঘটনা আমাদের ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ ও খেলাটির চেতনার প্রতিফলন নয়।’

তারা আরও বলে, ‘নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আমাদের নারী জাতীয় দলের কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। যদিও আউটটি ক্রিকেট আইনের আওতায় হয়েছে, আমরা বিশ্বাস করি খেলাটির চেতনা শুধু লিখিত নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেটি সবসময় আমাদের আচরণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত।’

ক্রিকেটে ‘টাইমড আউট’ আউটের নিয়মটি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। অনেকের মতে, নির্ধারিত সময়ের সামান্য বিলম্বকে কেন্দ্র করে ব্যাটারকে আউট করার আবেদন খেলাটির চেতনার পরিপন্থী।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত ‘টাইমড আউট’ ঘটনার জন্ম হয়েছিল ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। তখন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ব্যাট করতে নামার সময় তার হেলমেটের স্ট্র্যাপ ছিঁড়ে যায়। নতুন হেলমেট আনতে গিয়ে সময়সীমা অতিক্রম করলে বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে আউট ঘোষণা করা হয়। সেই ঘটনাও ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
 

Related Articles

Latest Posts