মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পরিষ্কার অভিযান শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে এ অভিযান শুরু করে বন বিভাগ।
দেশের অন্যতম সংরক্ষিত এ বনাঞ্চল পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল।
এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডেইলি স্টার।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ অফিসার কাজী নাজমুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, আজ আবার লাউয়াছড়ার ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। পর্যটকরা সচেতন না হলে বনটির রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, লাউয়াছড়ার আয়তন ১ হাজার ২৫০ একর। অথচ আমাদের জনবল মাত্র চারজন। রাজস্ব খাতে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। তাই পুরো বন রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও কমিউনিটি পেট্রল গ্রুপ (সিপিজি) ও কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সিএমসি) সহায়তায় আমরা পরিষ্কার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
লাউয়াছড়া সিএমসির কোষাধ্যক্ষ জনক দেববর্মা ডেইলি সরকার বলেন, বনের ভেতরের দোকানগুলো থেকেই মূলত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। দোকানিদের বারবার নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখতে বলা হলেও কেউ তা মানছেন না।
তিনি বলেন, বন সবসময় পরিষ্কার রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, শিগগির সফলতা আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু মারছিয়াং বলেন, উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আজ রেঞ্জ অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাকিবুল হাসান বলেন, লাউয়াছড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। কিন্তু বনের ভেতরে এত প্লাস্টিক আর পলিথিন দেখে সত্যিই মন খারাপ হয়ে যায়। বন বিভাগ পরিষ্কার করছে দেখে ভালো লাগলো। তবে পর্যটকদেরও সচেতন হওয়া উচিত। আমরা নিজেরাই যদি ময়লা না ফেলি, তাহলে এই বন অনেক বেশি সুন্দর থাকবে।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক তাসনিম আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, পরিবার নিয়ে প্রায়ই লাউয়াছড়ায় আসি। এবার এসে দেখলাম বন বিভাগের লোকজন ময়লা পরিষ্কার করছেন। এটি দেখে ভালো লাগল। তবে বনের ভেতরে পলিথিন ও প্লাস্টিক বিক্রি বন্ধ করা দরকার। প্রশাসন যদি কঠোর হয়, তাহলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
