মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মদনগৌরী গ্রামের একটি কংক্রিটের সেতু সাত বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু থেকে আশপাশের সাতটি গ্রামের হাজারো বাসিন্দার কোনো উপকার হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের ওই গ্রামে ৩০ লাখ ৭৪ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের জুন মাসে সেতুটি নির্মিত হয়।
আর স্থানীয়রা জানান, নির্মাণের পর একদিনের জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়নি।
হাকালুকি হাওরের একটি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ফুট উঁচু, কিন্তু এটি চারপাশের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যাতায়াত করা যায় না। বছরের বেশিরভাগ সময় খালটি শুকনো থাকায় বাসিন্দারা সেতুর নিচ দিয়েই পার হন।
কাছের একটি স্কুলের শিশুশিক্ষার্থীদের প্রায়ই এতে চড়তে দেখা যায়, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কায়েরচক এলাকার স্কুলগামী দুই সন্তানের মা রাহেলা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চারা যখনই স্কুলে যায়, সবসময় আতঙ্কে থাকি।’
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ওরা বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আমার দুশ্চিন্তা হয়। ওই সেতুটা একটা ফাঁদের মতো—উঁচু, জায়গায় জায়গায় ভাঙা, আর সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। বাচ্চারা কৌতূহল থেকে এর ওপর চড়ে। একটা ভুল পদক্ষেপেই আমাদের একটা শিশুকে হারাতে হতে পারে। সাত বছর কেটে গেছে, কিন্তু এটা ঠিক করতে কেউ আসেনি। সরকারের কাছে কী আমাদের সন্তানদের জীবনের কোনো মূল্য নেই?’
চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের ভাষ্য, ‘আমরা প্রতিদিন সেতুর নিচ দিয়ে পার হই, কারণ এটি ঠিকমতো ব্যবহার করার মতো কোনো রাস্তা নেই। মাঝে মাঝে কাদামাটি পার হওয়ার জন্য আমরা এর ওপর চড়ি, কিন্তু এটা খুব ভয়ের। আমাদের শিক্ষকরা এর ওপর যেতে নিষেধ করেন, কিন্তু আমাদের আর কী উপায় আছে?’
‘আমরা শুধু একটা পাকা রাস্তা চাই, যাতে শহরের বাচ্চাদের মতো আমরাও নিরাপদে হেঁটে স্কুলে যেতে পারি,’ যোগ করে শিক্ষার্থী।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খসরু মিয়া বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এ বছর মাটি ভরাটের জন্য দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, ‘সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য সেতুর দুই পাশে মাটি ফেলা হয়েছিল, কিন্তু বন্যার পানি বারবার তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানানোর পর অবশেষে সেটি নির্মিত হয়েছে, কিন্তু এর দুই পাশে কোনো রাস্তা নেই। বছরের পর বছর ধরে এটি শুধু পড়ে আছে, কারও কোনো কাজে আসছে না।’
আজ রোববার যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি আগে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং সংযোগ সড়কগুলো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
