অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ববিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’।
একই সঙ্গে ‘দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে’ এই ‘অসম ও অন্যায্য’ চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানানো হয়েছে।
গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’র পক্ষে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষক, পেশাজীবী, আইনজীবী, রাজনৈতিক কর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট ও নাগরিকদের স্বাক্ষরিত এ খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা।
বিবৃতিতে নাগরিকেরা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে, জাতীয় সংসদবিহীন অবস্থায় নিজেদের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি ভয়াবহ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই চুক্তির বিভিন্ন ধারা কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধীই নয়, তা দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রবল হুমকি।
চিঠিতে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পররাষ্ট্রনীতিতে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এই চুক্তি বহাল থাকলে তার সরাসরি লঙ্ঘন হবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের ‘জুলাই সনদ’-এ সংসদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের চুক্তি না করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা সংসদে এই নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। সংসদ সদস্যদের এই বিপজ্জনক নীরবতার যথাযথ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন নাগরিকেরা।
মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক একটি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মকে উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপিয়ে দেওয়া যে ‘রেসিপ্রকাল ট্যারিফ’ এই চুক্তির প্রেক্ষাপট ছিল, খোদ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করেছে। ফলে এই চুক্তির আইনগত বৈধতা এখন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নেই। চুক্তিটি বাতিল করলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে বাংলাদেশে বাড়তি উচ্চ শুল্ক বসানোর আর কোনো আইনি ক্ষমতা থাকবে না।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ বিশিষ্ট নাগরিকেরা সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে একক পরাশক্তির শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে দেশের জ্বালানি, তথ্য, কৃষি, ওষুধশিল্প, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্যখাতসহ রাষ্ট্রায়ত্ত খাত এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে চিঠিতে দাবি করা হয়, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই চুক্তি নামের মার্কিন ‘আদেশপত্র’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হোক এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশকে এই চুক্তির ‘ফাঁস’ থেকে মুক্ত করা হোক।
