প্রথম দুই ওভারেই তছনছ হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে বিপর্যয় কাটিয়ে লড়াইয়ে রাখেন মারনাশ লাবুশানে ও জেভিয়ের বার্টলেট। পরে বৃষ্টিতে অনেকটা সময় ভেসে যাওয়ায় নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে বাংলাদেশের।
দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া ৪১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করার পর নামে প্রবল বৃষ্টি। তাতে দীর্ঘ সময় ভেস্তে যায়। অজিদের ইনিংস শেষ হওয়ার আর উপায় ছিল না। ডিএলএস মেথডে তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের। খেলা শুরুর নতুন সময় নির্ধারিত হয় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট।
টসে হেরে ব্যাটিং বেছে নেওয়া অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন লাবুশানে। বার্টলেট করেন ৫২। তাসকিন ৩৩ রানে ৩ ও মোস্তাফিজুর রহমান ২৭ রানে নেন ৩ উইকেট। বাকি দুই উইকেট পেয়েছেন তানভির ইসলাম।
সকালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস যেন তাসের ঘর। কোনো রান করার আগেই তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। ওয়ানডে ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটল মাত্র চতুর্থবার, অজিদের জন্য এমন পরিস্থিতিতে পড়া প্রথম।
তাদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা দেন তাসকিন ও মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ওভারে তাসকিনের ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দেন শর্ট। সেটা ছোবল মেরে উড়িয়ে দেয় তাঁর স্টাম্প। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান যেন আরও ভয়ঙ্কর। কনলি তাঁর মুখোমুখি প্রথম বলেই ধরা দেন লিটন দাসের গ্লাভসে।
ওই ওভারের শেষ বলটা অফ স্টাম্পের বাইরে করেন মোস্তাফিজুর রহমান। রেনশর ব্যাট স্পর্শ করে সেটা আশ্রয় নেয় লিটনের গ্লাভসে। আম্পায়ার অনেকটা সময় নিয়ে তোলেন আঙুল। ০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
এরপর ২৫ রানের জুটি। অ্যালেক্স কেয়ারি একটু প্রতিরোধের আভাস দিয়েও জ্বলে উঠতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমানের বাইরের বল তাড়া করে ক্যাচ দেন পয়েন্টে। অধিনায়ক জশ ইংলিশ চূড়ান্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় ধরছিলেন হাল। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে ৪৩ রান যোগ করেন তিনি।
থিতু হওয়া ইংলিশ থামেন বাজে শটে। বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়া ডানহাতি ব্যাটার করেন ৩৮ বলে ৩৪ রান।
আগের ম্যাচে ফিফটি করা গ্রিনও করেন একই ভুল। থিতু হয়ে (২৫) তানভিরের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে হাঁটা ধরেন। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত অজিদের তখন তিন অঙ্ক স্পর্শ করা নিয়েও যেন সংশয়।
সপ্তম উইকেট জুটিতে হাল ধরেন লাবুশানে আর বার্টলেট। প্রতি-আক্রমণে দলকে লড়াইয়ে রাখার প্রয়াস চালান তাঁরা। গত কয়েক ম্যাচে ছন্দ হারিয়ে দিকহারা লাবুশানে যেন নিজেকে ফিরে পান। বার্টলেটকে নিয়ে গড়েন ১০৩ রানের জুটি।
তাসকিন নতুন স্পেলে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে এই জুটি ভাঙার পর নামে বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে চলে সেই বৃষ্টি।
