ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে শেষ মুহূর্তে সরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় তিনি জানান, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর একটি বড় জোটও এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানে ‘খুবই কঠিন’ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। সেই হামলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেল।
কিন্তু টানা তিন মাস যুদ্ধের পর এই কূটনৈতিক সমঝোতা আসলে কীভাবে হলো এবং ইরান কীভাবে তাদের সম্মতির কথা জানাল, সেই বিস্তারিত তথ্য ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট থেকে পরিষ্কার জানা যায়নি।
ট্রাম্প লেখেন, ইরানের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলোচনার বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানে নির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছি।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিশর এবং অন্যান্য দেশ আলোচনার বিষয়বস্তু এবং এর বিস্তারিত শর্তাবলীতে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চুক্তি পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ আগের মতোই কার্যকর থাকবে। শিগগির জানানো হবে, কবে এবং কোথায় এই চুক্তি সই হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই দাবি করেছেন। তবে প্রতিবারই ইরান সরকার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
দিনের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানে ‘খুবই কঠিন’ হামলা চালাবে। এমনকি তিনি এক পর্যায়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখলের ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি যখন সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল, তখনই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি এসেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। পরে এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতি অনেকটাই ভঙ্গুর পর্যায়ের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক সংঘাত দ্রুত সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভুল সিদ্ধান্ত জ্বালানি বাজার ধ্বংস করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করবে।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
একটি ইরানি সূত্রের মতে, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধ একটি কানাগলি বা অচলাবস্থা। ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
