রাজধানীর সব খালের সীমানা চিহ্নিত ও নির্ধারণের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মূলত খাল উদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত করার কাজকে আরও গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে গত ১১ জুন জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় খালের সীমানা নির্ধারণ, দখল হওয়া জলাশয় উদ্ধার এবং ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ডিএনসিসি এলাকার কমিটি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী প্রধান এই কমিটির প্রধান।
অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী, ঢাকার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিরা।
ডিএসসিসি এলাকার কমিটি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য ১১ সদস্যের পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই কমিটিতে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী, ঢাকার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিরাও এতে রয়েছেন।
কমিটির কার্যপরিধি
কমিটি দুটিকে তাদের নিজ নিজ এলাকার সব খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটিগুলো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের পরামর্শ নিতে পারবে এবং কাজের সুবিধার্থে নতুন কোনো সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়েছে।
