রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদে আলোচিত হোক চাই না: মামুনুল হক প্রসঙ্গে স্পিকার

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মামুনুল হকের নিয়ে অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির এমপি খন্দকার আবু আশফাকের দেওয়া বক্তব্যের অংশ বিশেষ এক্সপাঞ্জ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মামুনুল হকের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক স্পিকারের কাছে জানতে চান, মুতাহ বিয়ে কী? তিনি বলেন, ‘এই বাজেট নিয়ে মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়লেন মুতাহ বিয়ের নামে, আসলে সেটা কী ছিল আমি জানি না। ছাত্রশিবির নেতা জিসানের ইতিহাসও আপনারা জানেন।’

এ সময় সরকার দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, গাজীপুরে নয়, নারায়ণগঞ্জে।

প্রস্তাবিত বাজেটের ইতিবাচক নানা দিক তুলে ধরে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলার অনেক অবনতি হয়েছিল। অর্থনীতি তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের মাত্র চার মাস পার হয়েছে। এই চার মাসের মধ্যে সরকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করেছে, মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করেছে। বিরোধীদল থেকে এখনো বলা হয়, তাদের কথার বাইরে গেলে আন্দোলনে যাবে, কিন্তু বিএনপির জন্ম হয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে। বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই।

স্পিকার বলেন, অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত নিয়ম হলো যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে সংসদে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।

তিনি বলেন, ‘আপনারা মুতাহ বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে কি এক্সপার্ট মনে হয় এসব ব্যাপারে? সম্ভবত কেউ যদি বিদেশে যায়, আগে নিয়ম ছিল হয়তো এক মাসের জন্য বিদেশে গেল, এই এক মাসের জন্য তিনি সোকল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা একজন পার্টনার খুঁজে নিতে পারতেন। এটাই আমার ধারণা। তবে এসব নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না হওয়াই ভালো।’

এ সময় বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কথা বলতে চাইলে স্পিকার হেসে বলেন, ‘উপনেতা আপনি কী বলতে চান, মুতাহ বিয়েতে এক্সপার্ট নাকি আপনি?’

জবাবে তাহের বলেন, ‘মুতাহ বিয়ের ব্যাপারে আমি এক্সপার্ট না। তবে কনসেপ্টের ব্যাপারে আমি জানি।’

মামুনুল হকের সম্পর্কে ওঠা তথ্য একেবারেই ভুল দাবি করে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘উনি কোনো মুতাহ বিয়ে করেননি, গাজীপুরে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওনাকে হ্যারাস করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন এবং এটা এখন প্রতিষ্ঠিত। বিয়ে করা জায়েজ।’

এ সময় তাহের এই বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। চিফ হুইপ নুরুল ইসলামও একই আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয়, আপনাকে অনুরোধ করছি তা এক্সপাঞ্জ করার জন্য।’

স্পিকার বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হকের এই বিষয়টা সংসদের কার্যপ্রণালীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া, এখনো কিন্তু…এটা আমার বলার ইচ্ছা ছিল না, তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেননি। যাই হোক, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন নেই।’

এ সময় মুজিবুর রহমান কথা বলতে চাইলে তার উদ্দেশে স্পিকার এই প্রসঙ্গে কথা না বলার আহ্বান জানান। বলেন, ‘এটা একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ। এখানে আলোচিত হোক, এটা চাই না আমরা।’

Related Articles

Latest Posts