পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের ‘পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা’য় শিক্ষার্থী মাত্র পাঁচজন। তবে তাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে আছে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এই জনবলের পেছনে সরকারের প্রতি মাসে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুজন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম কাগজ-কলমে চলমান থাকলেও পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসাটিতে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও পরিদর্শনের সময় মাত্র সাতজনকে উপস্থিত পাওয়া যায়। কোনো হাজিরা খাতা না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির হার জানাও সম্ভব হয়নি। উপস্থিত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে বসিয়ে একসঙ্গে পাঠদান করা হচ্ছিল এবং বাকি শিক্ষকেরা অন্য একটি কক্ষে আলাপে ব্যস্ত ছিলেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে আব্দুল মোতালেব মিয়ার পরিবারের চারজন সদস্য এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার (প্রধান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার মেয়ে নূরজাহান রাঢ়ী ইবতেদায়ি শিক্ষক, ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী এবং আরেক ছেলে সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে বেতন তুলছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তবে এমপিওভুক্ত নয়—এমন কিছু নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই মাদ্রাসার শিক্ষক পাঠিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে এখানে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থী সংকটে ভুগলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা কমেনি। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার শিক্ষার্থী সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, এলাকার দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের এখানে ভর্তি করতে চান না। অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
