জাতীয় দলে কেন ভিন্ন নাম ব্যবহার করেন হালান্ড?

বিশ্বকাপে সেনেগাল ও ইরাক দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গেই জোড়া গোল করে নরওয়েকে জয় এনে দিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। তবে তার গোলের মতোই দর্শকদের নজর কেড়েছে আরেকটি বিষয়। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে যেখানে তার নামের পেছনে লেখা থাকে শুধু ‘হালান্ড’, সেখানে নরওয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাচ্ছে ‘ব্রাউট হালান্ড’।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, জাতীয় দলে খেলতে গিয়ে কেন ভিন্ন নাম ব্যবহার করছেন এই তারকা স্ট্রাইকার?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে তার পারিবারিক পরিচয়ে। ‘ব্রাউট’ হচ্ছে হালান্ডের মায়ের পারিবারিক নাম। তার মায়ের নাম গ্রি মারিতা ব্রাউট এবং বাবার নাম আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে ‘ব্রাউট হালান্ড’ ব্যবহার করে মূলত বাবা ও মা দুজনের পারিবারিক পরিচয়কেই সম্মান জানাচ্ছেন তিনি।

হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড নিজেও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। ম্যানচেস্টার সিটির হয়েও খেলেছেন তিনি। অন্যদিকে তার মা গ্রি মারিতা ব্রাউট ছিলেন নরওয়ের একজন অভিজাত হেপ্টাথলেট।

নরওয়ের সংস্কৃতিতে অনেক ক্ষেত্রে বাবা ও মায়ের পারিবারিক নাম একসঙ্গে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। যদিও জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই জার্সিতে সেই রীতি অনুসরণ করেন না। তবে হালান্ড নিজের শিকড় ও পারিবারিক পরিচয়কে তুলে ধরতেই ‘ব্রাউট’ নামটি আবার ব্যবহার শুরু করেছেন।

আসলে এটি তার জন্য নতুন কিছু নয়। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ার ক্লাব সালৎসবুর্গ এবং জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময়ও তাকে ‘এরলিং ব্রাউট হালান্ড’ নামেই ডাকা হতো। পরে ডর্টমুন্ডের শেষ দিকে এবং ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর ‘ব্রাউট’ অংশটি বাদ দিয়ে শুধু ‘হালান্ড’ নাম ব্যবহার করতে শুরু করেন।

তবে জাতীয় দলের জার্সিতে গত বছরের আগস্ট থেকে আবারও ‘ব্রাউট হালান্ড’ নামটি ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে গোল করার পাশাপাশি নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যকেও তুলে ধরছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।

 

Related Articles

Latest Posts