বিদেশি অনুদান পেতে এনজিও’র জন্য কেন নিয়ম কঠোর করল ভারত?

বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) ওপর নজরদারি আরও জোরদার করেছে ভারত সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, কোথায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার হাজার হাজার অলাভজনক সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি স্থগিত বা বাতিল করেছে। সরকারের অভিযোগ, এসব সংস্থা ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিল।

এ সপ্তাহে ভারত সরকার বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা ফরেন কনট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্টের (এফসিআরএ) সংশোধিত বিধিমালা জারি করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফসিআরএ নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী সংস্থাগুলোকে অনুমোদিত তালিকা থেকে তাদের কার্যক্রমের ধরন উল্লেখ করতে হবে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণ। পাশাপাশি তারা কোন এলাকায় কাজ করবে তাও জানাতে হবে।

এ ছাড়া, সংস্থাগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

বার্ষিক প্রতিবেদনে বিদেশি অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তৃত কার্যক্রম প্রতিবেদন ও প্রকল্পভিত্তিক তথ্য যুক্ত করতে হবে।

নতুন বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণত সেই সংস্থা বিদেশি অনুদান পাওয়ার যোগ্য হবে না।

গত কয়েক বছরে ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে এফসিআরএ আইন কঠোর করেছে। ২০২০ সালের একটি বড় সংশোধনের মাধ্যমে এক এনজিও থেকে অন্য এনজিওতে বিদেশি অনুদান স্থানান্তর নিষিদ্ধ করা হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয়ের সীমা ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

এদিকে বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়াতে এবং তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে নতুন একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া সংগঠনগুলোর ওপর সরকারের নজরদারি ক্রমেই বাড়ছে এবং কঠোর বিধিনিষেধের কারণে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

Related Articles

Latest Posts