ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম। প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা। এমন খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল ইকুয়েডর। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল লাতিন আমেরিকার দলটি। এই সাফল্য দেশের মানুষকে উৎসর্গ করেছেন তাদের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচেসে।
নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়েছে লা ত্রিরা। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হলো ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ সালের আসরে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিল তারা।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল ইকুয়েডর। দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে লিড নেয় জার্মানি। তবে দমে যায়নি লা ত্রিরা। নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলোর গোলে দ্রুতই সমতায় ফেরে তারা। আর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১৩ মিনিট আগে দুর্দান্ত এক গোল করেন গঞ্জালো প্লাতা। তাতেই সম্পন্ন হয় অঘটনের জন্ম দিয়ে ইকুয়েডরের নাটকীয় এই প্রত্যাবর্তন।
গ্রুপ পর্বের তৃতীয় সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে শেষ বত্রিশে খেলা নিশ্চিত করতে ইকুয়েডরের জন্য পূর্ণ পয়েন্টই দরকার ছিল। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর ডাগআউটে তাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দলটির আর্জেন্টাইন কোচ বেকাচেসে।
ম্যাচ শেষে বেকাচেসে বলেন, ‘আমার কাছে এর কী অর্থ, তা বড় বিষয় নয়। এটা (এই সাফল্য) জনগণের জন্য। খেলোয়াড়রা তাদেরকে নকআউট পর্বের এই টিকিট এনে দিয়েছে। এটি তাদেরকে উদযাপন করতে দিন এবং উপভোগ করতে দিন।’
চলতি আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোলই করতে পারেনি ইকুয়েডর। এবার তারা প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন স্বাদ পেল তারা। এর আগে ২০১৪ সালের আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে শুরুতে গোল হজম করেও জিতেছিল তারা।
ইকুয়েডরের জয়ের নায়ক প্লাতা বলেন, ‘ম্যাচটি ভীষণ উত্তেজনাকর ছিল। আমরা জানি, এখানে ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার জার্মানি। এটি খুবই কঠিন ম্যাচ ছিল এবং আমরা যে দুটি সুযোগ পেয়েছিলাম, তা কাজে লাগাতে পেরেছি। আগের দুই ম্যাচে আমরা সুযোগ পেয়েও বল জালে জড়াতে পারিনি। সৌভাগ্যবশত, দলের আত্মবিশ্বাস অটুট ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি বদলে দিতে পেরেছি।’
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্লাতা যোগ করেন, ‘আমরা সব জায়গার স্টেডিয়াম পূর্ণ করেছি। সমর্থকরা প্রতিটি স্টেডিয়ামে আমাদের ঘরের মাঠের অনুভূতি দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি এটা (এই জয়) তাদেরই প্রাপ্য। এখন, আমরা সাফল্যের জন্য আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে পরের রাউন্ডে যাব।’
৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে ইকুয়েডর। ৬ পয়েন্ট পাওয়া জার্মানি আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে খেলা নিশ্চিত করেছিল। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ের ব্যবধানে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়া আইভরিকোস্টও পেয়েছে নকআউট পর্বের টিকিট। বিদায় নিয়েছে ১ পয়েন্ট পাওয়া নবাগত কুরাসাও।
