জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কোনো একক ব্যক্তিকে মানতে নারাজ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
সংসদে তার আগের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘আন্দোলনের প্রধান নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করার জবাবে তিনি বলেছেন, ‘ওই বক্তব্য ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের। ৫ আগস্টের পর আমার অবস্থান স্পষ্ট—এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না।’
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
এ সময় তিনি শফিকুর রহমানের একটি পুরোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমানকে গণঅভ্যুত্থানের ‘প্রধান নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
এরপর দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাহেবকে। উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সময়টা সঠিকভাবে বলেননি। এই বক্তব্য ছিল চব্বিশের এপ্রিল মাসের। পরিবর্তনটা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্ট।’
গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের কাছে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় যাদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাদের সম্মান করি, ভালোবাসি। তাদের সেই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।’
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ড. ইউনূস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি প্রথমেই এর প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’
