রাউটারের গতি বাড়ানোর ১০ সহজ উপায়

অনলাইন ক্লাস, অফিসের জরুরি মিটিং, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা অনলাইন গেম সবকিছুর জন্যই এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট দরকার। কিন্তু অনেক সময় ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করলেও বাড়ির এক রুমে নেট চলে ভালো, আরেক রুমে গেলেই গতি কমে যায়। ভিডিও বাফারিং হয়, কল কেটে যায় বা ওয়েবসাইট ওপেন হতে চায় না।

এ ধরনের সমস্যার জন্য সব সময় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা থাকে রাউটারের অবস্থান, সেটিংস বা বাড়ির ভেতরের পরিবেশে। কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করলেই ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানো যায়।

রাউটারের অবস্থান ওয়াইফাইয়ের গতি নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

অনেকেই রাউটার ঘরের এক কোণে বা টিভির পাশে রেখে দেন। এতে বাড়ির অন্য প্রান্তে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়।

সবচেয়ে ভালো হয়, রাউটার বাড়ির মাঝামাঝি খোলা জায়গায় রাখা। চারপাশে যত কম দেওয়াল, দরজা বা বড় আসবাব থাকবে, সিগন্যাল তত ভালো ছড়াবে।

রাউটার মেঝেতে বা টেবিলের নিচে রাখলে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই রাউটার আলমারি, বুকশেলফ বা দেয়ালের উঁচু তাকের ওপর রাখুন। এতে সিগন্যাল আরও ভালোভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

যদি আপনার রাউটারে দুটি অ্যান্টেনা থাকে, তাহলে একটি সোজা ওপরে এবং অন্যটি আড়াআড়িভাবে রাখুন।

কারণ বিভিন্ন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও টিভির অ্যান্টেনার অবস্থান এক রকম নয়। অ্যান্টেনা দুটি ভিন্ন দিকে থাকলে সংযোগ আরও ভালো হয়।

যদি একটি অ্যান্টেনা থাকে, তাহলে সেটিকে সোজা বা আড়াআড়ি রেখে পরীক্ষা করে দেখুন কোন অবস্থায় ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায়।

দোতলা বা বড় বাড়িতে অনেক সময় একটি রাউটার দিয়ে সব জায়গায় ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায় না।

এ ক্ষেত্রে পাওয়ারলাইন নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ অন্য কক্ষে পৌঁছে দেয়।

তবে বাংলাদেশে এই ডিভাইস খুব বেশি প্রচলিত নয়। বিকল্প হিসেবে মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম বা ওয়াইফাই এক্সটেন্ডারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

অপরিচিত কেউ আপনার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। এমনকি ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তাই রাউটারে ডাব্লিউপিএ২ বা ডাব্লিউপিএ৩ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

বাড়ির কোন রুমে সিগন্যাল দুর্বল, তা আগে জানা দরকার।

এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন ওয়াইফাই অ্যানালাইজার অ্যাপ বা কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়।

এর মাধ্যমে বোঝা যায় কোথায় সিগন্যাল কম এবং রাউটার কোথায় রাখলে ভালো কাভারেজ পাওয়া যাবে।

অনেক নতুন রাউটারেই ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ—দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে।

২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের পরিসর বেশি হলেও এটি অনেক সময় ব্যস্ত থাকে। কারণ ব্লুটুথ ডিভাইস, ওয়ারলেস মাউস, কিবোর্ডসহ অনেক যন্ত্র এই ব্যান্ড ব্যবহার করে।

অন্যদিকে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে সাধারণত গতি বেশি পাওয়া যায় এবং বাধাও কম থাকে। তবে এর কাভারেজ তুলনামূলক কম।
যদি সুযোগ থাকে তাহলে ৫ গিগাহার্টজ বা ডুয়াল-ব্যান্ড মোড ব্যবহার করুন।

পাঁচ-ছয় বছর আগের রাউটার দিয়ে বর্তমানের উচ্চগতির ইন্টারনেটের পুরো সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে।

আপনি যদি ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির সংযোগ ব্যবহার করেন, তাহলে পুরোনো রাউটারই হতে পারে সবচেয়ে বড় বাধা।

প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তির ডুয়াল-ব্যান্ড বা ওয়াই-ফাই ৬ সমর্থিত রাউটার ব্যবহার করতে পারেন।

নতুন রাউটার কেনার আগে বাড়িতে থাকা পুরোনো রাউটারটিকেও কাজে লাগানো যায়।

সঠিকভাবে সেটআপ করলে সেটি রিপিটার বা ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে এবং ওয়াইফাইয়ের কাভারেজ বাড়িয়ে দেবে।
তবে এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে।

মনে রাখবেন দ্রুতগতির ইন্টারনেট কেবল ভালো প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে না। রাউটারের অবস্থান, সেটিংস, নিরাপত্তা এবং বাড়ির পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন রাউটার কেনার আগে এই সহজ উপায়গুলো একবার চেষ্টা করে দেখুন। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ওয়াইফাইয়ের গতি ও কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

Related Articles

Latest Posts