‘এই গোল যদি অবৈধ হয়, তাহলে আর্সেনালও চ্যাম্পিয়ন নয়’

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির বাতিল হওয়া গোল নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিএআরের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ থেকে শুরু করে সাবেক খেলোয়াড় ও রেফারিরাও। তাদের সবারই দাবি, জনাথন টাহের গোলটি বাতিল করার মতো কোনো স্পষ্ট ফাউল ছিল না।

বিশ্বকাপে জার্মান টেলিভিশন মাজেন্টা টিভির বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা ক্লপ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের গোলের তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ‘যদি এই গোল অবৈধ হয়, তাহলে আর্সেনাল কখনোই ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হতে পারত না। তারা পুরো মৌসুমে প্রায় ৬০ শতাংশ গোলই এমন পরিস্থিতি থেকে করেছে।’

ক্লপ আরও বলেন, ‘বল জালে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ম্যাচ জিতে গিয়েছিলাম। তাই এভাবে গোল বাতিল হওয়া সত্যিই নির্মম।’

অতিরিক্ত সময়ের দ্বাদশ মিনিটে কর্নার থেকে টাহের জোরালো হেডে জার্মানি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভিএআরের পরামর্শে রেফারি জালাল জায়েদ মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল করেন।

রেফারির মতে, কর্নার নেওয়ার সময় জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে বাধা দিয়েছিলেন। সেই সংস্পর্শে গিল মাটিতে পড়ে যান এবং পরে উঠে তাহের হেড ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবে সেটিই ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিবিসি ওয়ানে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরার সিদ্ধান্তটিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক পড়ে গেছে। এটা খুবই সফট সিদ্ধান্ত। ফুটবল তো শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক রেফারি ও ভিএআর দুজনকেই বোকা বানিয়েছে।’

সাবেক প্রিমিয়ার লিগ সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানও একই সুরে কথা বলেন। বিবিসি ওয়ানে তিনি বলেন, ‘আমার মতে এটা খুবই সফট সিদ্ধান্ত। তবে এই টুর্নামেন্টে যেভাবে ছোট ছোট ঘটনায় গোল বাতিল হতে দেখেছি, তাতে অবাক হইনি। গোলরক্ষকের সামনে সামান্য ব্লক ছিল, কিন্তু আমার কাছে সেটি গোল বাতিল করার মতো নয়।’

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে সাবেক স্কটল্যান্ড উইঙ্গার প্যাট নেভিনও মনে করেন, গোলরক্ষকের ওপর প্রভাব পড়েছিল কি না, সেটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘ওখানে কিছুটা ব্লক ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি গোলরক্ষককে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এটি পুরোপুরি ব্যাখ্যানির্ভর সিদ্ধান্ত।’

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ সমতায় থেকে টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।

ম্যাচ শেষে ক্ষোভ লুকাননি জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানও , ‘আমার মতে এটি কোনো ফাউলই ছিল না। এই গোল বাতিল করা আসলে রীতিমতো হাস্যকর সিদ্ধান্ত।’

Related Articles

Latest Posts