সরকারি বরাদ্দের সাইকেল নিজের নাতনিকে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে তা ফেরত দিয়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম।
কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে তার এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল, কৃষকদের জন্য স্প্রে মেশিন, দরিদ্র নারীদের জন্য সেলাই মেশিন ও ছাগল এবং যুবকদের জন্য ফুটবল বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার বরাদ্দ থেকে কোটচাঁদপুর উপজেলায় ২৪টি বাইসাইকেল, ২৮টি সেলাই মেশিন, ৩৭টি স্প্রে মেশিন, ১৬টি ছাগল, ১৫০টি ফুটবল ও কিছু গ্লুকোমিটার এবং বিপি মনিটর বিতরণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে একটি বাইসাইকেল কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সাইমুনকে সেই সাইকেল না দিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোল ফর্মে সই করে সাইকেলটি বাড়ি নিয়ে যান। পরবর্তীতে সাইকেলটি তিনি নিজের নাতনিকে দেন।
কোটচাঁদপুর পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বাশার বলেন, বাইসাইকেল মূলত দরিদ্র ছাত্রীদের দেওয়ার কথা, সেলাই মেশিন অসচ্ছল নারীদের, স্প্রে মেশিন কৃষকদের এবং ছাগল ভিক্ষুকদের দেওয়ার কথা। কিন্তু এসব জিনিস সব জামায়াত ও বিএনপির নেতারা নিজদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছে। কোটচাঁদপুর শহরে দুইতলা বাড়ি আছে, জামায়াত করা এমন লোকের মেয়েকেও বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। ছাগল ভিক্ষুকদের মধ্যে বিতরণ না করে দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় রোকনুজ্জামান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, বিতরণকৃত সব পণ্যই জামায়াত ও বিএনপি নেতারা ভাগাভাগি করে তাদের নিজদলীয় কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছে। প্রকৃত প্রাপ্য যাদের তাদের না দিয়ে দলীয় পরিচয় দেখে বিতরণ করা হয়েছে। জামায়াতের উপজেলা আমির ধনী মানুষ হলেও তিনি তার নাতনিকে সাইকেল দিয়েছেন। তাও আবার আরেকজনের নামে বরাদ্দ নিয়ে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার মেঝ ছেলে বর্তমানে বেকার। তার মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বাইসাইকেল বিতরণের দায়িত্ব আমার থাকায় আমি তাকে একটি বাইসাইকেল দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার জন্মনিবন্ধন সনদে ত্রুটি থাকায় আমি আমার এলাকার সাইমুন নামের এক ছেলের জন্ম নিবন্ধন নিয়ে তালিকায় নাম দিয়েছিলাম। গত ২৪ জুন উপজেলা পরিষদ থেকে বিতরণের সময় সাইমুন উপস্থিত ছিল না বলে আমি সই করে সাইকেলটি গ্রহণ করে আমার নাতনিকে দিয়েছিলাম। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে।
‘বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গতকাল আমি সাইকেলটি উপজেলা পরিষদে ফেরত দিয়েছি’, বলেন তিনি।
কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার ডেইলি স্টারকে বলেন, উপজেলা পরিষদে আবেদনের ভিত্তিতে এই জিনিসগুলো বিতরণ করা হয়েছে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক বরাদ্দ থেকে। বিতরণের পরে জানতে পারলাম উপজেলা জামায়াতের আমির অন্য একজনের নাম ব্যবহার করে একটি সাইকেল নিয়ে তার নাতনিকে দিয়েছেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি উপজেলা পরিষদে সাইকেলটি ফেরত দেন। পরে সেটি একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দের সব জিনিস বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সম্পর্কে আমার জানা নেই।
