মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ। গায়ে পুরোনো শার্ট, মাথায় টুপি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, ফসল পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়, কোনো মানুষ নয়। সে হলো কাকতাড়ুয়া।
কেবল ফসল পাহারা দেওয়া নয়, কাকতাড়ুয়াকে ঘিরেও রয়েছে একটি বিশেষ দিবস। প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় ‘বিল্ড আ স্কেয়ারক্রো ডে’ বা কাকতাড়ুয়া তৈরির দিবস। এ বছর দিবসটি পড়েছে ৫ জুলাই।
ফসল পাকতে শুরু করলেই মাঠে ভিড় জমায় কাক, চড়ুইসহ নানা পাখি। তারা শস্য খেয়ে অনেক ক্ষতি করতে পারে।
এই পাখিদের ভয় দেখাতেই কৃষকেরা কাকতাড়ুয়া বানান।
খড়, শুকনো ঘাস বা খড়কুটো দিয়ে মানুষের মতো একটি পুতুল তৈরি করা হয়। তারপর সেটিকে পুরোনো জামা-কাপড় পরিয়ে মাঠে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দূর থেকে দেখে অনেক পাখিই সেটিকে সত্যিকারের মানুষ ভেবে আর কাছে আসে না।
শুরুতে দিবসটি যু্ক্তরাষ্ট্রে উদযাপন করা হতো। পরে সেখানে জনপ্রিয়তা পেলে তা আরও কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই দিনে অনেক পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রতিবেশী একসঙ্গে কাকতাড়ুয়া বানান। কেউ মজার কাকতাড়ুয়া তৈরি করেন, কেউ আবার একেবারে আসল মানুষের মতো সাজান।
অনেক শহর ও গ্রামে কাকতাড়ুয়া বানানোর প্রতিযোগিতাও হয়। সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে মজার বা সবচেয়ে অভিনব কাকতাড়ুয়াকে দেওয়া হয় পুরস্কার।
কেবল দিবস নয়, বিশ্বের অনেক দেশে কাকতাড়ুয়া নিয়ে বড় বড় উৎসবও হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে প্রতিবছর কাকতাড়ুয়ার উৎসব বসে। সেখানে রাস্তাজুড়ে দেখা যায় নানা রকম কাকতাড়ুয়া। হাজার হাজার মানুষ সেই উৎসব দেখতে আসেন।
জাপানের একটি ছোট্ট গ্রামের নাম নাগোরো। তবে সবাই একে চেনে কাকতাড়ুয়ার গ্রাম নামে।
এই গ্রামে মানুষের চেয়ে কাকতাড়ুয়ার সংখ্যাই বেশি। ২০০টিরও বেশি কাকতাড়ুয়া ছড়িয়ে আছে পুরো গ্রামে। কেউ বাসের জন্য অপেক্ষা করছে, কেউ মাঠে কাজ করছে, আবার কেউ বেঞ্চে বসে গল্প করছে। সবই অবশ্য পুতুল!
প্রতিটি কাকতাড়ুয়ার আলাদা নাম আছে। আছে আলাদা গল্পও।
কাকতাড়ুয়ার ইতিহাস অনেক পুরোনো। প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছর আগে জাপানে এর ব্যবহার ছিল বলে ইতিহাসে জানা যায়।
পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও কাকতাড়ুয়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইউরোপীয়রা আমেরিকায় গেলে তারাও এই পদ্ধতি সঙ্গে নিয়ে যান। তবে তারও আগে উত্তর আমেরিকার আদিবাসীরা নিজেদের মতো করে কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করতেন।
প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, পৃথিবীর অনেক জায়গায় আজও কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে আজও কাকতাড়ুয়ার দেখা মেলে। কোথাও এটি ফসল রক্ষা করে, কোথাও আবার গ্রামীণ জীবনের সুন্দর একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
