তীব্র পানি সংকটে মিরপুর, কবে মিলবে স্বস্তি

রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানিসংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। রান্না, গোসল বা বাথরুম—বোতল ও বালতি হাতে পানির খোঁজে ছুটছে মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার জানিয়েও লাইনে পানি মিলছে না। এতে দৈনন্দিন কাজগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাজীপাড়ার বাইশবাড়ী এলাকায় বাসিন্দা জাহানারা আক্তার জানান, গত দুই মাস ধরে পানির সমস্যা চলছে। তিনি বলেন, ‘অন্য বাসা থেকে এক কলস পানি এনেও রান্না করতে পারি না। বাধ্য হয়ে পানি কিনে আনি। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। গোসলও করাতে পারছি না। এভাবে পানি ছাড়া আর কয় দিন চলবে? নতুন লাইন দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, সব সময় পানি থাকবে। কোনো কোনো সময় একদমই পানি পাই না।’

আরেক বাসিন্দা মানসুরার অভিযোগ, পানি না থাকায় জামাকাপড় পর্যন্ত ধুতে পারছেন না। প্রতিদিন পানি কিনতেই তার প্রায় পাঁচশ টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি। পাঁচ-ছয় মাস ধরে এই সমস্যায় থাকার কথা জানান তিনি।

একই এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, ওয়াসা নতুন লাইন বসানোর পর দুই মাস স্বাভাবিকভাবে পানি পেয়েছিলেন তারা। এরপর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওয়াসার পানি ব্যবহার না করেই তাদের মাসের পর মাস পানির বিল দিতে হচ্ছে। নাজমা বেগম বলেন, ‘পানি ছাড়া তো কিছুই করা যায় না। আগুন না থাকলেও কিনে খাওয়া যায়। কিন্তু পানি ছাড়া কিছুই সম্ভব না। এখন পানি নেই, অথচ তারা (ওয়াসা) উল্টাপাল্টা বিল করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কিনে এনে রিজার্ভ ট্যাংকে পানি ভরছি। এরপর মোটর ছেড়ে যখন পানি ওপরে তুলি, তখন ওয়াসার মিটার ঘোরে। তাহলে তো আমি ওয়াসাকে দুইবার বিল দিচ্ছি! একবার পানি কিনে আনছি, আবার সেটা ওঠানোর সময় মিটার ঘোরায় ওয়াসাকেও বিল দিচ্ছি। এই সমস্যা শুধু আমার একার নয়, প্রত্যেক বাসারই একই সমস্যা।’

পানি নিয়ে এই অভিযোগের ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হকের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি স্টার। তিনি বলেন, ‘বাইশবাড়ীর সবাই যে পানি পায় না, ব্যাপারটা এমন নয়। হয়তো গলির মাথায় যেখানে পানির প্রেশার বেশ কম থাকে, সেখানে পানি পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা বলছেন পানি পাচ্ছেন না, হয়তো দেখা গেল তার এক ইউনিটে ৫০টি ফ্ল্যাট আছে। এই মুহূর্তে আমাদের যে পানি উৎপাদন রয়েছে, তাতে ওই ৫০টি ফ্ল্যাটে পর্যাপ্ত পানি দেওয়ার মতো অবস্থা নেই।’

যন্ত্রণা থেকে মানুষের মুক্তি মিলবে কবে জানতে চাইলে এমদাদুল হক বলেন, ‘কাজীপাড়ায় তিন নম্বর পাম্পের যে বোরিংয়ের কাজ চলছে, তা এই মাসেই শেষ হবে। আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের মতো লাগতে পারে। তবে এই সংকট দীর্ঘদিনের নয়।’

ওয়াসার এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ‘তাদের পানির প্ল্যান্ট বন্ধ হওয়ার পর থেকে মানুষের মধ্যে এমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, যার ট্যাংকে চলার মতো পানি আছে, তিনিও পানি টেনে তা পূর্ণ করে রাখছেন। চাহিদার চেয়েও বেশি পানি সঞ্চয় করে রাখছে মানুষ। এ কারণে শেষের দিকের বাসাগুলোতে পানি পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে।’

মেট্রোরেলের কারণে মিরপুরে যাতায়াতের সুবিধা বাড়লেও পানির তীব্র সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই এখন এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন–পানি পাওয়া না গেলে বিল কেন দিতে হবে?

Related Articles

Latest Posts