অবিশ্বাস্য জয়ের পর অশ্রুসিক্ত মেসি

মিশরের দ্বিতীয় গোলের পর ক্যামেরা তখন এক মুহূর্তের জন্য লিওনেল মেসির মুখের দিকে তাক করা। চোখ ভরা অবিশ্বাস, কিছুটা কি শঙ্কাও ছিল? যদি থেকেও থাকে, সতীর্থদের সাথে নিয়ে নিজেই তা দূর করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে অক্সিজেন যোগান দেয়া প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট করেছেন, সমতায় ফেরানো গোলটিও করেছেন। 

আর এনজো ফার্নান্দেজের গোলে যখন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হলো, মেসি তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাঠেই অশ্রুসজল হয়েছে মেসির চোখ। এমন স্বস্তির জয়ের পর মেসিও নিজের আবেগে বাঁধ দিতে চাননি বোধহয়! 

আর্জেন্টিনার এই দলটা যে মেসিকে প্রাণভোমরা মেনে খেলে, সেটির প্রমাণ আরও একবার দেখা গেলো ম্যাচ শেষে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সবাই মিলে গোল হয়ে মেসিকে শুন্যে ছুঁড়েছেন। মেসিসহ প্রত্যেকের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছিলো, এই জয় তাদের কাছে কতটা অর্থবহ, কতটা স্বস্তিদায়ক।

ম্যাচ শেষে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্য দেয়া সাবেক ফুটবলার রয় কিনও অনুভব করতে পেরেছেন মেসির আবেগ, ‘আমার গলা ভেঙে গেছে। অনবদ্য ম্যাচ। গতকাল রোনালদোর চোখে দুঃখের কান্না দেখেছি, আজ মেসির চোখে খুশির কান্না’। 

আর্জেন্টিনার চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসাও করেছেন কিন, ‘ওরা কখনোই হাল ছাড়ে না। তাদের প্রতিটা গোলই ছিল দারুণ। এ কারণেই আমরা ফুটবলকে এত ভালোবাসি’। 

এরকম প্রত্যাবর্তনের রাতে ব্যক্তিগত অর্জন ভীষণই তুচ্ছ, তবে এই টুর্নামেন্টে প্রায় প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু রেকর্ড ভেঙে চলেছেন মেসি। ব্যতিক্রম হয়নি আজও। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। সবশেষ নয় বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসির এখন ১৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। 

Related Articles

Latest Posts