প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফনের কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরান-মাশহাদ রেলপথসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সেনাবাহিনীর চলমান হামলার অংশ হিসেবে’ কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা, কাতারে একটি আগাম সতর্কীকরণব্যবস্থা এবং বাহরাইনে জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক কামিকাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা কুয়েতের আরিফজান ও আলী আল-সালেম এবং বাহরাইনের জুফাইর ও শেখ ঈসায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
এএফপি জানায়, আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং তৃতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজে।
কুয়েত জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কাতারও বাসিন্দাদের উচ্চমাত্রার হুমকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই দেশটিতে প্রথম এমন সতর্কতা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির মরদেহবাহী মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ বৃহস্পতিবার মাশহাদে অবতরণ করেছে।
সেটি অবতরণের পর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা।
তিন দশকের বেশি সময় ইরানের নেতৃত্বদানকারী খামেনির কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্যের চূড়ান্ত পর্ব হবে মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে। এর আগে তেহরানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন।
در حالی که آتشبس برقرار بود، آمریکا در روزهای ۱۷ و ۱۸ تیر ۱۴۰۵ پنج استان ایران را هدف حمله قرار داد؛ حملاتی که تاکنون ۱۴ شهید و ۷۸ مصدوم بر جای گذاشته است. از میان مجروحان، ۴۷ نفر همچنان در بیمارستان بستری هستند و سایر مصدومان پس از دریافت خدمات درمانی ترخیص شدهاند.#آتش_بس
— حسین کرمانپور Hossein.Kermanpour (@HKermanpour) July 9, 2026
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর এক্সে জানান, আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খামেনির দাফনের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন হামলার পর তেহরান ও মাশহাদের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রেলওয়েজ এ ঘটনার জন্য ‘মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুর অপরাধমূলক হামলাকে’ দায়ী করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতে দল পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, রেভল্যুশনারি গার্ড অভিযোগ করেছে, খামেনির শেষকৃত্যকে ‘ম্লান করে দেওয়ার চেষ্টায়’ মাশহাদমুখী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর দুটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
— U.S. Central Command (@CENTCOM) July 9, 2026
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণস্থল এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র ৮ জুলাই ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত এক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে।’
