বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরির মামলার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ৫ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
আজ বৃস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চুরির মামলায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আগৈলঝাড়া থানার হাজতে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ দুপুরে এলাকায় রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে শতাধিক নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা চালান। এ সময় দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে আহত রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ছয়জন আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আহত অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকিরের অভিযোগ, বিনা কারণে তাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ মারধর করেছে। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ বিষয়ে ওসি মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাজতে থাকাকালে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়েছে ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে।
‘ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে’, বলেন মাসুদ খান।
জানতে চাইলে বরিশালের পুলিশ সুপার (এসপি) এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, গ্রেপ্তার রিয়াজের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসারও
মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে আসামি রিয়াজকে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করতে দেখা গেছে। হামলায় পুলিশের এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
