শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পুরো প্রথমার্ধ গোলহীন ছিল ফ্রান্সের আক্রমণভাগ। মরক্কোর বিপক্ষে সুযোগ এসেছিল ৩০ মিনিটের আগেই এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পেনাল্টি মিস করে বসেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এরপর প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা না পাওয়ায় পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ নিশ্চয়ই ছিল ফ্রান্স সমর্থকদের। তবে কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছেন, দলে এমবাপে থাকায় সম্পূর্ণ নির্ভার ছিলেন তিনি।
মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। এমন জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কোচ দেশম। সেখানেই এমবাপেকে আবারও প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস, সাথে কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা- সব মিলিয়ে ম্যাচটা কঠিন ছিল। কিন্তু যখন আপনার দলে এমবাপে আছে, তখন সংশয়ের কোনো কারণ নেই। যদিও সে পেনাল্টি মিস করেছে, কিন্তু গোলের সামনে সে কখনো দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে বলে সে নাকি একনায়ক, শুধু নিজের কথাই ভাবে। কিন্তু আসল কথা হলো সে দলের অধিনায়ক এবং একজন অনুকরণীয় ফুটবলার’।
ব্রাজিল ও জার্মানির পর তৃতীয় দল হিসেবে ৮ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার নজির গড়েছে ফ্রান্স। এর মধ্যে দেশমের অধীনে গত তিন বিশ্বকাপেই তিনবার। খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার বিরল রেকর্ডের মালিক দেশম তার দলের এমন অজেয় মানসিকতায় গর্বিত, ‘টানা তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দারুণ অর্জন। যদিও আমাদের কাছে এটা যৌক্তিক ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, তাও আপনাকে কষ্ট করেই এরকম অর্জন করতে হবে’।
ফ্রান্সের এই দলের এমন অপরাজেয় যাত্রার পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দেশম বলেন, ‘কৃতিত্ব অবশ্যই খেলোয়াড়দের, তবে আমিও মনে হয় নিজের কাজটা ভালোই করছি। এটি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। দিনশেষে মাঠের পারফরম্যান্সই একমাত্র সত্য, তবে এর সাথে জড়িত মানবিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো হুবহু অনুকরণ করার মতো বিষয় নয়, কারণ পরিস্থিতি বা পরিবেশ কখনোই একরকম থাকে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদা। এই দলও সেটি একই রকম ভাবে অনুভব করছে দেখে ভালো লাগছে’।
ম্যাচের ১৩ মিনিট বাকি থাকতে হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় এমবাপেকে তুলে নেন দেশম। তবে ফ্রান্স কোচ নিশ্চিত করেছেন, চিন্তিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি, বরং সতর্কতাবশতই অধিনায়ককে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
