মারাত্মক ভুল করা বদলি গোলরক্ষকের পাশে দাঁড়ালেন কর্তোয়া

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ। ঘড়ির কাঁটায় তখন শেষ মুহূর্তের খেলা। ঠিক এমন সময়েই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সের এক মারাত্মক ভুলে স্পেনকে ২-১ গোলের জয় উপহার দিল বেলজিয়াম। তবে সতীর্থের এমন যন্ত্রণাদায়ক ভুলের রাতে তার পাশেই দাঁড়িয়েছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭১ মিনিটে পেশির চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কোর্তোয়া। তার জায়গায় পোস্টের নিচে দাঁড়ান ২৪ বছর বয়সী অনভিজ্ঞ ল্যামেন্স। কিন্তু বদলি হিসেবে মাঠে নামার সেই অভিজ্ঞতা ল্যামেন্সের জন্য রূপ নেয় এক দুঃস্বপ্নে। পাউ কুবার্সির এক দূরপাল্লার শট ঠিকঠাক সামলাতে পারেননি তিনি; আর সেই সুযোগে ৮৮ মিনিটে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করতে কোনো ভুল করেননি মিকেল মেরিনো।

৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়া ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের জানান, মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার আগে তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তরুণ সতীর্থের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছি। সে দুর্দান্ত একজন গোলরক্ষক। এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিই একজন মানুষকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে।’ 

কোর্তোয়া আরও যোগ করেন, ‘আসলে এই মুহূর্তে তাকে খুব বেশি জ্ঞান দেওয়ার বা পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। সে শক্ত মনের ছেলে, ওর ব্যক্তিত্বও দৃঢ়। আমি নিশ্চিত ও ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে।’

ল্যামেন্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কোর্তোয়া বলেন, ‘সামনে কিছুদিন ছুটি কাটিয়ে ও ম্যানচেস্টারে ফিরবে। নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে একটা দারুণ মৌসুম কাটাবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

দ্বিতীয়য়ার্ধের শুরুতে একটা বল ক্লিয়ার করতে গিয়েই ডান পায়ে চোট পেয়েছিলেন কর্তোয়া। তবে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া তুলে নেওয়ার আগে মাঠেই থাকতে চেয়েছিলেন এই তারকা।

কোর্তোয়া বলেন, ‘অবশ্যই আমি খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোচ মাঠে এমন কাউকে চেয়েছিলেন যে শতভাগ ফিট। আমি আরও পাঁচ-দশ মিনিট চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম কারণ আমি ছন্দেই ছিলাম। কিছু ভালো সেভও করেছি, কোনো সমস্যা হচ্ছিল না।’

কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা কোচের ছিল এবং তা নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচ থেকে উঠে আসতে কারই বা ভালো লাগে! কিন্তু মাঝে মাঝে বাস্তবতা মেনে নিতেই হয়, পরিস্থিতি তো আর বদলে ফেলা যাবে না।’

ল্যামেন্সের পাশে দাঁড়িয়েছেন বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডন মেচেলও।

মেচেল বলেন, ‘এটি ওর জন্য বড় একটা শিক্ষার সুযোগ। বলটি কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না, ঠিক ওর সামনে এসে বাউন্স খেয়েছিল। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যদি বলটির পেছনে আর একটু তৎপর থাকতাম, তবে হয়তো ওকে সাহায্য করা যেত।’

দলগত সংহতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ভুল থেকে ওকে শিখতে হবে। আর দল হিসেবে আমাদের মূল দায়িত্বই হলো কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকা এবং সাহায্য করা।’

 

Related Articles

Latest Posts