কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কে ৭০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল থেকে সাঁকোটি ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রায় দুই সপ্তাহের দুর্ভোগ কাটিয়ে অন্তত ৫০০ পরিবারের যাতায়াত সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে গ্রামীণ সড়কটির একটি অংশ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে গোড়কমন্ডল গ্রামের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সদর ও জেলা শহরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করেন গ্রামবাসী।
তারা আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটিই ওই এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের পথ। তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অল্প সময়ের মধ্যে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলে আপাতত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয় কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, সাঁকো নির্মাণ হওয়ায় এখন মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। মোটরসাইকেল, সাইকেল ও রিকশাভ্যানও চলাচল করছে। তবে মালবোঝাই কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। তাই কৃষিপণ্য বাজারে নিতে এখনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কার করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বন্যার পানিতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। তার নির্দেশনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, গ্রামবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মানুষের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার অথবা সেখানে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
