আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে রেফারি ও ভিএআর। ফিফার নতুন নিয়ম ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’র আওতায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো, ম্যাচের ফলাফলে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড দল। কোচ মুরাত ইয়াকিন তো বলেই দিয়েছেন, এই নিয়মের কারণেই ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে এম্বোলোর লাল কার্ড প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইয়াকিন বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি তারা (ফিফা) রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে, কিন্তু এই নিয়মের কারণেই আজকের ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছে’।
এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না ইয়াকিন, ‘প্রথমত, ওটাকে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো কারণ নেই। ওটা কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল না। এই একটি সিদ্ধান্তই পুরো ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছে’।
কোচের মতোই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার, ‘আমি জানি না রেফারি কী করছিলেন। এরকম পরিস্থিতিতে কেন তাকে কার্ড দেখানো হলো আমি বুঝতে পারছি না। প্রথমার্ধে এরকম ফাউল আরও অনেকগুলো হয়েছে। তাহলে তো সবাইকেই হলুদ কার্ড দেখাতে হয়’।
ভিএআরের যত্রতত্র হস্তক্ষেপ নিয়েও ক্ষুব্ধ ফ্রয়লার, ‘আমি বুঝতে পারছি না এরকম পরিস্থিতিতে ভিএআর কীভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। মাঠের রেফারিদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে দেয়া উচিত’।
লাল কার্ডের ওই সিদ্ধান্তের পর পুরো সুইজারল্যান্ড বেঞ্চ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন এম্বোলো। ম্যাচ শেষে ইয়াকিনের কাছে এম্বোলোর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুইস কোচ বলেন, ‘সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। দলকে সে সহযোগিতা করতে পারেনি আজ। তার মতো আমরা সবাইও ব্যথিত। এটা পুরোপুরি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত’।
এই বিশ্বকাপ উপলক্ষে রেফারিংয়ে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করেছে ফিফা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সংশোধনের আইন। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনার অনুরোধেই নিয়মটি চালু করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে যদি হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হয়, কিন্তু পরে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় যে অপরাধটি আসলে প্রতিপক্ষের নয়, বরং কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়ই করেছেন, তাহলে রেফারি আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন।
ঠিক এই নিয়মেই আটকে গেছেন এম্বোলো। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের জন্য প্রথমে দোষী মনে করেছিলেন রেফারি। কিন্তু ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি; বরং এম্বোলো ইচ্ছাকৃতভাবে ডাইভ দিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে পারেদেসের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে এম্বোলোকেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়।
