ঘুষের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে থাইল্যান্ডের হাজারো সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডে দুর্নীতি ও ঘুষের ঘটনা প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। তবে এত বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা একসঙ্গে এমন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বিরল।
গত জুনে এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়।
তদন্তকারীরা জানান, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বা পদোন্নতির জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় প্রার্থীদের পাস করিয়ে দিতে কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৮ লাখ বাথ (প্রায় ৩০ লাখ টাকা) পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। অভিযোগ মতে, ওই কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিকভাবে পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করেছেন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উনসিত সামপুনথারাত সাংবাদিকদের জানান, এসব পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ হাজার ৮১৪ সরকারি কর্মকর্তার ফলাফলে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে আগামীকাল শুক্রবার থেকেই তাদের বরখাস্ত করা হতে পারে।
উনসিত বলেন, ‘এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর যারা সৎভাবে নিজেদের পদ অর্জন করেছেন, তাদের প্রতি এটি চরম অবিচার।’
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জালিয়াতির পুরো বিষয়টি সামনে আনতে তদন্তকারীরা প্রায় ৮ লাখ পরীক্ষার উত্তরপত্র পর্যালোচনা করবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত দুই পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নথি ধ্বংস ও গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের একজন প্রতিবেশী দেশ লাওসে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে আটক করা হয়।
দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের জরিমানার পাশাপাশি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এই জালিয়াতির ঘটনাকে ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দেন।
বুধবার তিনি বলেন, এটি এমন এক ‘দুষ্টচক্র’, যেখানে কর্মকর্তারা দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা ও দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীন হন, আর সেই পদই তাদের আরও দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়।
পুলিশ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার ১৭ দিনের যৌথ তদন্তের পর এসব গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তদন্তকারীরা কম্পিউটার ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি জব্দ করেন।
পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে থাইল্যান্ডের সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণত মাসে প্রায় ৫৩০ থেকে ২ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৭ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা) বেতন পান।
