ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) মারধর করার অভিযোগে রেললাইন অবরোধ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি তদন্তকরে টিটিইর শাস্তিসহ চার দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করে রাখা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা অভিমুখী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ আছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি জানান, গত রোববার ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে তাকে মারধর করা হয়। তার অভিযোগ, এক টিটিই রসিদ ছাড়াই বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলছিলেন।
প্রতিবাদ করলে ওই টিটিই এবং তার সাথে থাকা অন্য একজন ব্যক্তি ফোরকানের কলার ধরে দুই বগির মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। তিনি আরও বলেন, পাশের বগির যাত্রীরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে হামলাকারী দুজন সেখান থেকে চলে যান।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ট্রেন চলাচল বন্ধ করতে তারা রেললাইনের ওপর লাল কাপড় মোড়ানো বাঁশ বেঁধে দেন। এর মধ্যেই উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এবং দুই উপ-উপাচার্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রেললাইনেই অবস্থান করছিলেন। তাদের চার দফা দাবিতে আছে—অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীরে হাজির করতে হবে; ঘুষ নেওয়ার দায়ে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে এবং যাত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে; ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকতে হবে।
ফোরকান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।’
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, গতকাল পদ্মা এক্সপ্রেসে কর্তব্যরত টিটিই কর্তৃক আমাদের এক শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। অবরোধের কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছি।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার জিয়াউল আহসান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকাল ৭টায় ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা থাকলেও অবরোধের কারণে তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে আটকা পড়েছে। এ ছাড়া সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেসও স্টেশনে অপেক্ষায় রয়েছে।
এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ বর্তমানে কোনো ট্রেনই স্টেশনে ঢুকতে বা বের হতে পারছে না।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থলে সশরীরে হাজির করার দাবিতে অনড় রয়েছেন।
