ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসের পর ২৬ দিন পর অনশন ভেঙেছেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
আজ শুক্রবার দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রাতে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জে পি নাড্ডা) ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় তারা সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াংচুকের দাবিগুলো পূরণে ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
এরপরই অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন সোনম ওয়াংচুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখ অ্যাপেক্সের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে আমি ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছি।’
তবে ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও তার দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্লাইমেট জাস্টিস প্রোটেস্ট (সিজেপি)।
এদিকে ভারতব্যাপী শিক্ষার্থীদের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে বিহার রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাটনা, বেগুসরাই, দরভাঙ্গা, কাটিহার, জেহানাবাদ ও আরওয়ালসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন ছাত্রাবাস, লজ ও হোটেলে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আজ সংসদে আসার আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন। প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান এবং শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করতে লাঠিচার্জ, ব্যাটন ও পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন যারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন। এরপর আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত।’
ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দিল্লি মেট্রোর ১৭টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।
