নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি বরাবরই গাজার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন নিয়েও সোচ্চার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই নেতা।
গত ২১ জুলাই মার্কিন গণমাধ্যম দ্য রোলিং স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র জোহরান মামদানি জানান, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি ও তার স্ত্রী প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।
সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘প্রাণনাশের হুমকির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা কঠিন। কিন্তু আপনি যখন সবার পক্ষ নিয়ে লড়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তখন এ ধরনের পরিণতিও মেনে নিতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি একই ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন। ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিরোধিতা করার কারণেই এসব হুমকি আসে।
মামদানি বলেন, মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব হুমকি আসা শুরু হয়েছিল এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও গাজা নিয়ে অবস্থানের কারণে তার স্ত্রীও সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়েছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দ্য হেগে বিচার হওয়া উচিত।
এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
চলতি বছরের প্রথম দিনে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জোহরান মামদানি। নির্বাচনে জেতার আগে থেকেই তিনি বলে এসেছেন, নেতানিয়াহুকে তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচনা করেন। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দাবি করেছেন, নিউইয়র্কে পা রাখলেই গ্রেপ্তার হবেন নেতানিয়াহু।
তবে বাস্তবতার বিচারে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন মামদানি। অকপটে মেনে নিয়েছেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের হাতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি এখতিয়ার নেই।
এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ওপরই বর্তায়, মত দেন মামদানি।
