বাবরের লড়াই থামিয়ে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আগের দিন থেকেই উইকেট হয়ে উঠছিল পেসারদের জন্য স্বর্গ। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস অল্প রানে আটকেও স্বস্তি পেল না পাকিস্তান। রান তাড়ায় নেমে জেডেন সিলস, কেমার রোচ, জাস্টিন গ্রিভসদের তোপে লন্ডভন্ড হয়ে গেল তারা। পুরো দলের মহাবিপর্যয়ের মাঝে যা একটু লড়লেন কেবল বাবর আজম।

ত্রিনিদাদের তারৌবার ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে নিয়েছে ৯০ রানে। ২১১ রানের লক্ষ্যে থাকা পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে স্রেফ ১২০ রানে। যার মধ্যে বাবর একাই করেন অপরাজিত ৫৮ রান। পুরো দলের আর একজনই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছিলেন। এতে বোঝাই যাচ্ছে গোটা দলটির ব্যাটিং দশা।

পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করতে মাত্র ১৮ রানে ৫ উইকেট নেন সিলস। প্রথম ইনিংসে রেকর্ড গড়া গ্রিভস পান ২ উইকেট। অভিজ্ঞ কেমার রোচও নেন ২ উইকেট।

জয়ের জন্য ২১১ রানের লক্ষ্যটা এমনিতেই চতুর্থ ইনিংসের পাকিস্তান দলের জন্য একটু বড্ড বেশিই পর্বতসম মনে হচ্ছিল। আগের ম্যাচের ক্ষত আর বিদেশের মাটিতে জয়ের খরা—সব মিলিয়ে যে মানসিক চাপে পাকিস্তান ছিল, মাঠের পারফরম্যান্সে তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল। মধ্যাহ্নভোজের আগেই তিন ব্যাটারকে হারিয়ে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে তারা। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে কেবল বাবর অসহায় আত্মসমর্পণের তাণ্ডবলীলা প্রত্যক্ষ করলেন। একে একে সবাই এলেন আর গেলেন, বাবরের এই সংগ্রাম তাই কেবলই ব্যবধান কমানোর লড়াই হয়ে রইল।

এই হারে বিদেশের মাটিতে টানা ৮টি টেস্টে পরাজিত হওয়ার তিক্ত রেকর্ড নিজেদের নামের পাশে আরও পোক্ত করল পাকিস্তান।

দিনের শুরুটা অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের অষ্টম উইকেটের প্রতিরোধ দিয়ে। আগের দিন ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা স্বাগতিকদের ১৫৫ রানের লিড এনে দিয়েছিলেন শামার জোসেফ ও কেমার রোচ। চতুর্থ দিনের সকালে মোহাম্মদ আলির এলোমেলো বোলিং আর কিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ মিস ও বাই রান মিলিয়ে আরও বাড়তি রান কুড়িয়ে নেয় উইন্ডিজ। রোচকে সঙ্গে নিয়ে জোসেফ চালিয়ে খেলতে থাকেন। খুররম শাহজাদকে মারা তার সোজা ছয়টি ছিল দিনের সেরা দৃশ্য। অবশেষে আলির এক স্লোয়ারে জোসেফ (৩৮) থামলে ভাঙে ৬১ রানের অমূল্য জুটি। শেষ দুটি উইকেটে আরও ২৭ রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮১ রানে অলআউট হয়। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ না পেলেও, আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। বল হাতে রোচ আর সিলস নিখুঁত লাইনে সফরকারীদের চেপে ধরেন। সিলসের সুইঙে পরাস্ত হয়ে গ্লাভসে বল লাগিয়ে বিদায় নেন ইমাম-উল-হক। এরপর আজান ওয়াইসকে আউটসাইড এজে এবং সালমান আগাকে রিভার্স সুইঙে ভেতরের প্যাডে আছড়ে ফেলে সাজঘরে পাঠান সিলস।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো অধিনায়ক শান মাসুদ আঙুলের চোটের কারণে ওপরে ব্যাট করতে পারেননি। আর এই সুযোগে পাকিস্তানের ক্ষত আরও বাড়িয়ে দেন জাস্টিন গ্রিভস। প্রথম ওভারেই রিজওয়ানকে বোল্ড করে এবং চোট পেয়ে নড়বড়ে থাকা আমের জামালকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। নতুন মুখ আলি উসমানও দীর্ঘক্ষণ টিকতে পারেননি। ভেঙে যাওয়া আঙুল নিয়ে এক হাতে ব্যাট করতে নেমে শান মাসুদও বেশিক্ষণ লড়াই চালাতে পারেননি, ক্যাচ তুলে দেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে।

৮৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে স্রেফ অলআউটের অপেক্ষায় থাকা পাকিস্তানকে কিছুটা বিনোদন যোগায় বাবর আজম ও ১০ নম্বর ব্যাটার আব্বাসের শেষ উইকেটের জুটি। নিজের ৩২তম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর বাবর অলআউট আক্রমণাত্মক মুডে চলে যান। আব্বাসও ব্যাট উঁচিয়ে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে থাকেন, যা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এনে দেয়!

তবে এই প্রতিরোধ কেবলই হারের সময় পিছিয়ে দেওয়ার নামান্তর। চা-বিরতির ঠিক পরপরই সিলসের সোজা বল আব্বাসের প্যাডে আঘাত হানলে পাকিস্তানের লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটে। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক সেই সিলস। ক্যারিবীয় পেসের তাণ্ডবে বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের কষ্টের গল্প আরও দীর্ঘ হলো, আর তারৌবায় রঙিন হলো মহান স্যার গ্যারি সোবার্সের ৯০তম জন্মদিনের প্রাক্কাল।

 

Related Articles

Latest Posts