প্রায় দেড় বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলার বিনিয়োগে বোয়িংয়ের ২১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
আজ বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থাটি একে ‘দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে বহর সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের নতুন বহরে থাকবে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ও ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, বহর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে তারা বেশ কয়েকটি নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং, শেনঝেন ও বেইজিং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাং, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিভিন্ন গন্তব্য, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবের মদিনা ও দাম্মাম এবং ওমানের সালালাহ।
ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এই বিনিয়োগ বহর সম্প্রসারণের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। ইউএস-বাংলাকে কেবলমাত্র উড়োজাহাজ সংস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপে রূপান্তর করার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদী যে লক্ষ্য তারই প্রতিফলন এটি। বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে আমরা উড়োজাহাজ, জনবল, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, কার্গো, ক্যাটারিং ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন একে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং বোয়িংকে বাংলাদেশের ‘সেরা ব্যবসায়িক দৃষ্টান্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘সম্ভবত এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জনবলে বিনিয়োগ। উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২০০ বাংলাদেশি পাইলটকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ইউএস-বাংলার পরিকল্পনা এভিয়েশন খাতের পরবর্তী প্রজন্মের পেশাজীবীদের জন্য একটি বিনিয়োগ।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান আরও বড় একটি বিষয় তুলে ধরছে—যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত হতে থাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক। মার্কিন কোম্পানিগুলো উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, উচ্চমানের পণ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের সুযোগ দেয়। একইভাবে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোও উদ্যোক্তা মনোভাব, দৃঢ় সংকল্প ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে আসে।’
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির এ খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন, এভিয়েশন খাত কর ছাড়ের জন্য চাপের মুখে রয়েছে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।
