‘ববিতা আমার আত্মার আত্মা, আমাদের সবকিছুতেই মিল’

বাংলা চলচ্চিত্রে সুচন্দা ও ববিতা কেবল দুই বোন নন, দুই প্রজন্মের দর্শকের কাছে দুটি উজ্জ্বল নাম। একজনের হাত ধরে অন্যজনের চলচ্চিত্রে যাত্রা, এরপর দুজনই হয়ে উঠেছেন দেশের সিনেমার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পর্দার বাইরেও তাদের সম্পর্কের বন্ধন ঠিক ততটাই গভীর।

সুচন্দার ভাষায়, ববিতা শুধু তাঁর ছোট বোন নন, ‘আত্মার আত্মা’—যার সঙ্গে রুচি, অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দ, এমনকি জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তেও রয়েছে আশ্চর্য মিল।

সেই অকৃত্রিম ভালোবাসা আর স্মৃতির গল্পই দ্য ডেইলি স্টারকে শুনিয়েছেন সুচন্দা।

সুচন্দা বলেন, ‘ববিতাকে নিয়ে আমি খুব গর্ব করি। আমার আদরের ছোট বোন অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শুধু নিজের সাফল্যই নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকেও সমৃদ্ধ করেছে।’

তিনি জানান, ববিতাকে চলচ্চিত্রে আনার পেছনে তারই ভূমিকা ছিল।

‘আব্বা প্রথমে রাজি ছিলেন না। অনেক বুঝিয়ে তাকে রাজি করিয়েছিলাম। তবে এরপর নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম আর সততা দিয়েই ববিতা সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে।’

দুই বোনের সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে সুচন্দা বলেন, ‘ববিতার সঙ্গে আমার আত্মার আত্মা মিলে যায়। রুচি, পছন্দ, খাবার—প্রায় সবকিছুতেই আমাদের আশ্চর্য মিল।’

হেসে একটি স্মৃতিও শোনান তিনি। ‘অনেক অনুষ্ঠানে আমরা আলাদা আলাদা বাসা থেকে একই রঙের শাড়ি পরে গেছি। সবাই ভাবত, আগে থেকে বুঝি ঠিক করে রেখেছি। আসলে তা নয়, এটা শুধু মনের মিল।’

আরেকটি ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘একদিন ববিতা আমাকে একটি নির্দিষ্ট রঙের লিপস্টিক আনতে বলেছিল। আমি ঠিক সেই রঙটিই নিয়ে গিয়েছিলাম। ও অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি বুঝলে কী করে?’ আমি বলেছিলাম, এটাই তো মনের মিল।’

খাবারের পছন্দেও তাদের মিল অনেক।

‘আমি যা খেতে ভালোবাসি, ববিতাও তাই পছন্দ করে। ছোটবেলা থেকেই ওকে আমি নিজের সন্তানের মতো আদর করে বড় করেছি। মা চলে যাওয়ার পর ওকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছি। তাই ববিতা শুধু আমার বোন নয়, অনেকটা সন্তানের মতো।’

ববিতার জন্মদিনে তিনি নিজেই রান্না করেন। তার ভাষ্য, ‘ওর পছন্দের খাবার রান্না করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরোয়াভাবে জন্মদিন উদযাপন করি। আমার নাতি-নাতনীরাও ওকে খুব ভালোবাসে, ওদের কাছে সে ববি নানু।’

সুচন্দা জানান, ববিতা আজও যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে তার মতামত নেন।

‘এটা আমাকে খুব আনন্দ দেয়। ও আমাকে অনেক সম্মান করে,’ বলেন তিনি।

ছোটবেলার ববিতাকে মনে করে তিনি বলেন, ‘ও খুব দুষ্টু ছিল, কিন্তু ভীষণ বুদ্ধিমান। কখন কী করতে হবে, সেটা খুব ভালো বুঝত। আমার বিশ্বাস, সেই প্রজ্ঞার কারণেই ওর ক্যারিয়ারে এত ভালো ভালো চলচ্চিত্র যুক্ত হয়েছে এবং দেশ-বিদেশে এত সম্মান অর্জন করেছে।’

আদরের ছোট বোনের জন্য সুচন্দার শেষ প্রার্থনা, ‘ববিতা সুস্থ থাকুক, দীর্ঘায়ু হোক। ওর জন্য সব সময়ই আমার ভালোবাসা আর দোয়া থাকবে।’

Related Articles

Latest Posts