গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রিমেল মিয়া ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছয় লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণশ্রমিকের চাকরি নিয়ে রাশিয়া যান। তার মূল লক্ষ্য ছিল ঋণের বোঝা কমানো এবং পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো।
তবে সেখানে কাজ হারানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার পর তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন। মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ইউক্রেনের বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হিসেবে ধরা পড়ে এখন তিনি দেশটির একটি ডিটেনশন সেন্টারে আছেন।
গতকাল জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিমেল বলেন, ‘আমার পরিবার জানে না আমি কোথায় আছি, কিংবা আমি বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তার পরিবার অন্তত তার বেঁচে থাকার খবর জানতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো ভেবে নিয়েছিল আমি মারা গেছি। আমি বেঁচে আছি জানলে তারা কিছুটা শান্তি পাবে।’
দ্য ডেইলি স্টার যে তিনজন বাংলাদেশি যুদ্ধবন্দির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, রিমেল তাদের একজন।
ইউক্রেনের ‘কোঅর্ডিনেশন হেডকোয়ার্টার্স ফর দ্য ট্রিটমেন্ট অব প্রিজনার্স অব ওয়ার’ এই সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেছিল।
অন্য দুজন হলেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের সারোয়ার সুমন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কামরুল হাসান।
তারা আরও জানিয়েছেন, কীভাবে ঋণের বোঝা, অভিবাসন সমস্যা আর সাধারণ চাকরিতে মোটা অঙ্কের বেতনের প্রতিশ্রুতি তাদের শেষ পর্যন্ত রুশ সেনাবাহিনীতে এবং পরে ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়ে গেছে।
তবে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। রিমেল ও সারোয়ার জানান, তারা স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে কামরুলের অভিযোগ— রাশিয়ায় একজন উজবেক দালাল তাকে ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে সেনাবাহিনীতে ঢুকিয়ে দিয়েছিল।
ব্যাংককভিত্তিক ‘ফোর্টিফাই রাইটস’ এবং ইউক্রেন-ভিত্তিক ‘ট্রুথ হাউন্ডস’-এর একটি যৌথ প্রতিবেদনের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার আগে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০৪ জন বাংলাদেশি রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পান। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেককেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কারখানা শ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান বা নিরাপত্তারক্ষীর চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
তারা দালালদের এক হাজার ডলার থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেন। তাদের রুশ ভাষায় লেখা এমন একটি চুক্তিনামায় সই করানো হয়, যা তারা পড়তে পারতেন না। এর মাধ্যমে তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তারা যখন কাজ ছেড়ে চলে আসতে চেয়েছেন, তখন তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং বেতন না দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবন্দি ওই তিন বাংলাদেশিই জানিয়েছেন, তারা সরাসরি দেশে না ফিরে আগে একবার রাশিয়ায় যেতে চান। রুশ সেনাবাহিনী তাদের যে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বা তাদের নামে যে অর্থ জমা করার কথা বলেছিল, তা সংগ্রহ করেই তারা বাংলাদেশে ফিরতে চান।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে রিমেল বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার আগে তিনি আশুলিয়ার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে নির্মাণকাজের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকার বড় একটা অংশই তাকে ধারদেনা করে জোগাড় করতে হয়েছিল।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরুতে তিনি একটি কোম্পানিতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে তাকে মাসে ৭০০ ডলার বেতন দেওয়া হতো এবং নয় মাসের একটি ওয়ার্ক পারমিটও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেখানে কর্মরত একজন বাংলাদেশি সুপারভাইজার তাকে জানান, কর্মীদের হয়তো বেশিদিন রাখা হবে না। তখন রিমেল সেই কাজ ছেড়ে মস্কোতে চলে যান। সেখানে তিনি রাস্তা তৈরির কাজে যোগ দেন এবং প্রায় ১৫ দিন সেখানে কাটান।
সে সময় রাশিয়ায় পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় ও নথিপত্র তল্লাশি চলছিল। অন্যদিকে তার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদও শেষ হয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় বৈধভাবে থাকার কোনো একটা উপায় হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন রিমেল। শেষ পর্যন্ত তিনি রাশিয়ার উফা শহরে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর একটি চুক্তিতে সই করেন।
‘কেউ আমাকে জোর করেনি,’ বলেন রিমেল। তিনি বলেন—তার আশা ছিল সেনাবাহিনীতে কাজ করলে রাশিয়ার নাগরিকত্ব মিলবে এবং বিদেশ যেতে যে বিপুল টাকা খরচ হয়েছে, তা-ও ওঠানো যাবে।
তবে যে চুক্তিনামায় তিনি সই করেছিলেন সেটি ছিল রুশ ভাষায় লেখা, যার একটি অক্ষরও তিনি বুঝতে পারেননি।
রিমেল জানান, তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল— এক বছরের চুক্তি শেষ করলে তাকে প্রতি মাসে দুই লাখ ১০ হাজার থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতন এবং রাশিয়ার পাসপোর্ট দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্টটি জমা নেওয়া হয়েছিল, যা পরে আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র তিন দিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় যুদ্ধক্ষেত্রে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রিমেল বলেন, বাঙ্কারের মতো একটি জায়গায় প্রায় এক মাস আমি একাই ছিলাম। সেখানে আমার কাজ ছিল অনেকটা পাহাড়াদারের মতো। আমি কারও দিকেই গুলি ছুড়িনি।
সে সময় ড্রোন দিয়ে তার অবস্থানের কাছাকাছি খাবার, পানি ও সিগারেটসহ প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়া হতো। আর রুশ বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও।
রিমেল জানান, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দুই সেনা বাঙ্কারের সামনে চলে আসে। তাদের দেখা মাত্রই তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
দ্বিতীয় যুদ্ধবন্দি সারোয়ার জানান, তিনি একটি এজেন্সিকে প্রায় ৬ লাখ টাকা দিয়ে আরও কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে রাশিয়ার একটি গ্যাস প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েছিলেন।
আর তৃতীয় ব্যক্তি কামরুল রাশিয়ায় যাওয়ার আগে দীর্ঘ ১২ বছর সিঙ্গাপুরে কর্মরত ছিলেন।
সারোয়ার জানান, তাকে দুই বছরের চুক্তিতে নেওয়া হলেও রাশিয়ার সেই প্রকল্পটি মাত্র ছয় মাস পরই বন্ধ হয়ে যায়। তখন কোম্পানি থেকে তাদের দেশে ফেরার টিকিট দিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু বিদেশ আসার পেছনে এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় খালি হাতে দেশে ফিরতে রাজি ছিলেন না সারোয়ার।
মস্কোতে থাকাকালীন তিনি আর কামরুল রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের কিছু বিজ্ঞাপন দেখতে পান, যেখানে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। সেই নম্বরে ফোন করার পর তাদের একটি প্রাইভেটকারে করে নেওয়া হয় তুলা শহরে।
সেখানে গত ২০ মার্চ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং রুশ ভাষার একটি চুক্তিনামায় সই নেওয়া হয়। সারোয়ার আক্ষেপ করে বলেন, সেই চুক্তিনামায় আসলে কী লেখা ছিল, তার কিছুই তারা বুঝতে পারেননি।
প্রায় ৩৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে এই দুই বাংলাদেশিকে বনের ভেতর যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তারা মাত্র পাঁচ দিনের মতো ছিলেন।
সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা বর্ণনা করতে গিয়ে সারোয়ার বলেন, ‘বনের চারদিকে মানুষের মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি আমরা। আমাদের কোনো থাকার জায়গা ছিল না, তাই গাছের নিচেই রাত কাটাতাম। মাঝে মাঝে ড্রোনের মাধ্যমে আমাদের কাছে খাবার পাঠানো হতো।’
তিনি জানান, তাদের অবস্থানের ওপর দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হতো; কোনো কোনো সময় প্রতি দুই মিনিটের ব্যবধানেও হামলা হতো। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—ইউক্রেনের সৈন্য দেখা মাত্রই যেন গুলি চালানো হয়। কিন্তু সারোয়ারের দাবি, তারা কখনোই কোনো গুলি ছোড়েননি।
রণক্ষেত্রে তাদের পঞ্চম দিন, অর্থাৎ ১৩ মে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে তারা যখন একটি গাছের নিচে বসে ছিলেন, তখন ইউক্রেনের পাঁচ সৈন্য তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। কোনো উপায় না দেখে তারা সঙ্গেসঙ্গেই আত্মসমর্পণ করেন।
সারোয়ার আক্ষেপ করে বলেন, রুশ সৈন্যরা পাশে না থেকে তাদের দুজনকে (সারোয়ার ও কামরুল) একেবারে ফ্রন্টলাইনে ঠেলে দিয়েছিল। অথচ পেরুসহ অন্যান্য দেশ থেকে আসা বিদেশিদের রাখা হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রের নিরাপদ সারিতে।
তিনি আরও জানান, তারা দুজন রুশ ভাষা জানতেন না। তবে কামরুল ইংরেজি বলতে পারতেন। তিনিই রুশ কমান্ডারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ সামলাতেন। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আগেই বেতন ও বোনাস বাবদ সারোয়ার প্রায় চার লাখ টাকা হাতে পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সারোয়ারের রুশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আরও কিছু টাকা জমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্দি হওয়ার কারণে সেই টাকা আদৌ জমা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার কোনো সুযোগ তার হয়নি।
সারোয়ার জানান, তিনি একবার রাশিয়ায় যেতে চান এবং টাকাগুলো জমা পড়ে থাকলে তা তুলে নিয়ে তারপর বাংলাদেশে ফিরতে চান।
তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কামরুলের বয়ান সারোয়ারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কামরুল জানান, গ্যাস প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এক উজবেক দালালের খপ্পরে পড়েন তিনি।
ওই দালাল ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে লাটভিয়া, পোল্যান্ড ও জার্মানি হয়ে ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কামরুল তাকে অগ্রিম হিসেবে পাঁচ লাখ টাকাও দিয়েছিলেন।
কামরুলের অভিযোগ—ইতালি পাঠানোর নাম করে তাকে আর সারোয়ারকে একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করতে বলা হয়।
তারা জানতেনই না যে ওগুলো আসলে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তিপত্র ছিল। কামরুল বলেন, দালালকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে দেওয়ায় তখন সই করা ছাড়া তার সামনে আর কোনো উপায় ছিল না।
আক্ষেপ করে তিনি বললেন, ‘বাড়িতে আমার মা, স্ত্রী আর দুটো সন্তান আছে। আমি যে ইউক্রেনে বন্দি হয়ে আছি, সে খবরটা এখনো তাদের জানাতে পারিনি।’
এই তিন বাংলাদেশির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার কিংবা কোনো হাই কমিশন বা দূতাবাস এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করেনি।
তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধবন্দিদের তাদের পরিবারের কাছে নিজেদের খবর পাঠানোর এবং যোগাযোগ বজায় রাখার অধিকার আছে (যদিও নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ বা সীমিত করা হতে পারে)।
এই সাক্ষাৎকারের আয়োজকেরা জানান, পরিবারের সঙ্গে এমন যোগাযোগ সাধারণত আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মাধ্যমে হওয়া উচিত।
নিয়ম অনুযায়ী, সাংবাদিকেরা বন্দিদের পক্ষ হয়ে সরাসরি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। তবে গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা এই খবর প্রচার করতে পারেন—ওই ব্যক্তিরা বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে ইউক্রেনে বন্দি রয়েছেন।
রিমেল জানান, রেড ক্রসের প্রতিনিধিরা তাদের ক্যাম্পে এসেছিলেন। কিন্তু সেই সময় পুরো প্রক্রিয়াটি তার জানা ছিল না বলে তিনি তাদের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেননি।
বর্তমানে ইউক্রেনের ডিটেনশন সেন্টারে তাদের একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে হয়। তারা জানান, সাধারণত ভোর ৬টায় তাদের ঘুম থেকে উঠতে হয়। হাত-মুখ ধুয়ে সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে তারা সকালের নাস্তা সারেন। নাস্তায় সাধারণত পোরিজ, চা ও রুটি দেওয়া হয়।
ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি বলেন, ইউক্রেনে আটক এই বাংলাদেশি যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাওয়া এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজে বের করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের উচিত ইউক্রেনের কাছে এই যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চাওয়া এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা।’
কুইনলি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশিকেই মোটা অঙ্কের ঋণ নিতে হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাশিয়ায় পাচারের ফাঁদে পড়েন, আবার কেউ কেউ টাকা কিংবা রাশিয়ার নাগরিকত্বের আশায় জেনেশুনে স্বেচ্ছায় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি রাশিয়ায় আরও কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করে, তবে ওই কর্মীদের অবশ্যই পাচার ও শোষণের ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন করতে হবে।
দিনের বেলায় তাদের বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা শপিং ব্যাগ এবং পোশাক বা প্রসাধনী রাখার প্যাকেট তৈরির কাজ করেন। দুপুরে তাদের খাবারে সাধারণত স্যুপ, রুটি আর পোরিজ দেওয়া হয়।
তারা জানালেন, তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হচ্ছে; সেখানে তাদের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।
ইউক্রেনের এনজিও ট্রুথ হাউন্ডসের মারিয়া তোমাক বলেন, এই তিনজনের অভিজ্ঞতাই এক সুতোয় গাঁথা। তারা সবাই বৈধ চাকরির খোঁজে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের কৌশলে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায়, রাশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকেরা কতটা ঝুঁকিতে আছেন। তাদের স্বেচ্ছায়, প্রতারণার মাধ্যমে কিংবা চাপের মুখে— যেকোনোভাবেই সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।’
মারিয়া তোমাক আরও বলেন, বন্দি হওয়াটাই সবচেয়ে খারাপ পরিণতি নয়। কারণ অনেক বিদেশি যুদ্ধে মারা গেছেন অথবা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন।
তিনি রাশিয়ায় সাধারণ চাকরি করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সেখানে বিদেশিরা প্রতারণা, জোর-জবরদস্তি বা সহিংসতার শিকার হতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
