শেখ হাসিনা ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না, লোকসভায় মোদি সরকার

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার লোকসভায় উত্থাপিত পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির নবম প্রতিবেদনের জবাবে ভারত সরকার তাদের এ অবস্থান তুলে ধরে।

ভারতীয় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ পর্যালোচনা করে এবং বিভিন্ন সুপারিশের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য চায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতি ভারত ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে আসছে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করছেন। তার নামে বিবৃতিও দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে ভারতে রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, যাদের জীবনের ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি রয়েছে বা যারা ব্যতিক্রমী মানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, তাদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সরকার জানিয়েছে, ওই বিবেচনাতেই শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা, আইনি অঙ্গীকার ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার সুপারিশ করেছে পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটি।

ভারত সরকারের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুরোধটি বিবেচনা করছে এবং প্রযোজ্য আইনি কাঠামো অনুযায়ী তা প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়ের পর তার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কমিটি ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লি নতুন কোনো নীতিগত ঘোষণা দেয়নি।

ভারতের রাজধানীতে অবস্থানরত কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টে উপস্থাপিত নথিটি মূলত সরকারের বিদ্যমান অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এতে নতুন কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি।

প্রতিবেদনটিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জওসয়ালের বক্তব্যও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিনি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অনুরোধ ভারত পেয়েছে, তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Latest Posts