ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। আজ থেকেই শুরু হবে এই আলোচনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই খবরটা জানিয়েছেন।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর আগে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে ‘বড় আকারের’ হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। দাবি করেন, দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ার শর্তে হামলা স্থগিতে তিনি সম্মত হয়েছেন।
রোববার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিষয়গুলো।
অপরদিকে, ইরান জানিয়েছে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি করতে চলেছে।
ট্রাম্প আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর সর্বাত্মক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৫ মাস ধরে সেই যুদ্ধই চালিয়ে যাচ্ছে পেন্টাগন। তবে এরই মাঝে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতায় কয়েক দফায় শান্তি এসেছে।
কিন্তু স্বল্পকালীন যুদ্ধবিরতি থেকে বের হয়ে এসে গত মাসে টানা ১৩ দিন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানোর হুমকি দেন। ওই হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে শনিবার ওই ‘কঠোর’ অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।
জানান, ‘বিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। তবে দ্রুত একটি চুক্তি হতে হবে।’
রোববার এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ‘এখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। এক ধরনের দরকষাকষি শুরু হবে। এটা আগামীকাল (সোমবার) বিকেল থেকে শুরু হবে।’
তবে কোথায় এই আলোচনা হবে এবং এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মার্কিন নেতা।
এর আগে, ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাকে হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি এটাও দাবি করেন যে তার পরিকল্পিত হামলাটি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ হওয়ার কথা ছিল।
তবে ইরান এই দাবি নাকচ করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর ওই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে ইরান।
সংঘাতের শুরুতে ইরানের পরমাণু প্রকল্প বন্ধের লক্ষ্য কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায়। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু প্রকল্পে শুরুমাত্র বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগে ব্যবহার হবে। এমন কী, এ বিষয়ে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি একটি ফতোয়াও দিয়ে গেছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর পরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সমগ্র বিশ্বজুড়ে।
জুনে ওয়াশিংটন-তেহরান যে স্মারক চুক্তিতে সই দিয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা—এই তথ্য রোববার নিশ্চিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ও আইনপ্রণেতা হাসান ঘাশঘাভি।
ওই সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে পরবর্তীতে চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।
শুরু থেকেই ইরান দাবি করে এসেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি এই আলোচনার বাইরে থাকবে।
ঘাসঘাভি জানান, ‘তারা জানে এখন মূল বিষয়টি কী। এখন হরমুজ প্রণালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, এ বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় হচ্ছে।’
সামাজিক মাধ্যম এক্সে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘শত্রুরা যেসব বিষয় নিয়ে চুক্তিতে সই করেছে, সেগুলো যাতে তারা মেনে চলে সেটা নিশ্চিত করতে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।’
