ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দেশের দ্বৈরথ দেখা না গেলেও সম্প্রতি ব্রাজিলের বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে কথার লড়াইয়ে মেতে উঠেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রোববার এলএন প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার সমালোচনায় মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার মিলেই।
মন্তব্য করেন, ‘তিনি (লুলা) একজন চোর। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত। তার বিরুদ্ধে চুরি ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। এ জন্য তিনি জেলও খেটেছেন। এ কারণে আমরা তাকে একজন আসামি বলতে পারি।’
ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লুলার বিপক্ষে ডানপন্থিদের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিওর প্রতি ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মিলেই।
গত সপ্তাহের শেষভাগে আর্জেন্টিনার নেতা ফ্লাভিওর পক্ষে প্রচারণা চালাতে ব্রাজিল সফর করেন। এ সময় দেওয়া এক বক্তব্যেও লুলার বিরুদ্ধে একই ধরনের মন্তব্য করেন তিনি।
মিলেইয়ের বক্তব্যের পর আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতকে শলাপরামর্শের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বক্তব্যে মিলেই ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরবর্তীতে নিজেদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায় বুয়েনস আয়ার্স।
মিলেইয়ের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়ান রাভিয়ের জানান, ‘আদর্শিক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের’ কারণে তিনি এসব কথা বলেছেন।
কেন তিনি লুলার প্রতি এতটা আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করেন, এ প্রশ্নের জবাবে মিলেই বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন না যে আপনার কাছ থেকে কেউ কিছু চুরি করলে তা আগ্রাসনের পর্যায়ে পড়ে? চুরি করার তুলনায় চোরকে “চোর” বলা অনেক কম গুরুতর একটি বিষয়।’
‘নিরপরাধী বলে নয়, বরং প্রশাসনিক ভুলের কারণে তারা তাকে (লুলা) মুক্তি দিয়েছিল। এ কারণে আমরা বলতে পারি, তিনি একজন চোর এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি’, যোগ করেন আর্জেন্টিনার নেতা।
তিনি বলেন, ‘আমি এসব বলছি কারণ আমি স্বাধীনতার আদর্শকে ধারণ করি।’
এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন লুলা। এরপর ২০১৮ সালে দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি ৫৮০ দিন কারাভোগ করেন।
প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে তার দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। পরে ওই মামলার বিচারকও পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন বলে রায় দেওয়া হয়।
