বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির সামনে রাখা ব্যাগে বিস্ফোরণে দুই নারীসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভরপাশা ইউনিয়নের দুধাল মৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—হানুফা বেগম (৪০), তার মেয়ে ইতি (১৯) ও হানুফার নাতি ফাহিম (১৪)।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
হানুফার ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী জামাল হাওলাদার জানান, তাদের বাড়ির সামনে কাদাময় পথের পাশে তারের সঙ্গে একটি ব্যাগ ঝুলানো ছিল। হাঁটার সময় হানুফা বেগম ভর দেওয়ার জন্য তারটি স্পর্শ করতেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণে আমার মা, বোন ও ভাগ্নে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
আহতদের মধ্যে হানুফা বেগমের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বলে জানান জামাল।
তবে পরিবারের আরেক সদস্য জানান, গাছের সঙ্গে বাঁধা একটি দড়ি ধরে কাদাময় পথটি পার হতেন তারা। ওই দড়ির সঙ্গে ঝুলানো একটি ব্যাগ হঠাৎ মাটিতে পড়ে গেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের নার্স লিংকন দত্ত জানান, ফাহিমের মুখ, হাত ও পায়ে দগ্ধের ক্ষত রয়েছে। হানুফা বেগম ও ইতির শরীরের ওপরের অংশ দগ্ধ হয়েছে। তিনজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।
ঘটনাস্থলে থাকা বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, কী ধরনের বিস্ফোরক থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বা কীভাবে এটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কী ধরনের বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়েছে কিংবা ঘটনাস্থলে আরও বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানিয়েছি। তারা আজই ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কে বা কারা এ বিস্ফোরকটি রেখেছে এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবে।’
