উরুগুয়ের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিলেন ফোরলান

বিশ্বকাপ চলাকালীন গুঞ্জনটা ডালপালা মেলেছিল, আলোচনার জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। সেই পথ ধরেই এবার চুক্তিটা আলোর মুখ দেখল। বিশ্বকাপের চরম ব্যর্থতার পর নিজেদের সাবেক তারকা ফুটবলার দিয়েগো ফোরলানকেই জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে উরুগুয়ে ফুটবল সংস্থা (এইউএফ)।

গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মার্সেলো বিয়েলসা। তার জায়গায় ফোরলান আসছেন—এই খবরের প্রাতিষ্ঠানিক মোহরটাই শুধু বাকি ছিল।

আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে অনূর্ধ্ব-২০ এবং মূল জাতীয় দলের ভার সামলাবেন ২০০২ পরবর্তী সময়ের উরুগুয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা এই প্রতিনিধি। আগামী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও মার্চের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে তার হাতেই থাকবে দলের রাশ। তবে সময়ের প্রয়োজনে এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি করার পথও খোলাই রাখছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পর পর দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে। এবার সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের মতো দলের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে শুরুতেই বিপদে পড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়।

৭১ বছর বয়সী কোচ মার্সেলো বিয়েলসার ছক আর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল টুর্নামেন্ট জুড়েই। বিশেষ করে অবসর ভেঙে প্রবীণ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি বড় ভুল প্রমাণিত হয়, যিনি টুর্নামেন্টজুড়ে একের পর এক ভুল করে বসায় বিয়েলসার উপর চাপ বাড়ছিল। পরে  ৪৮ দলের বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব পার  না হওয়ায় পদত্যাগ করেন বিয়েলসা। 

ডাগআউটে আনকোরা, কিন্তু পরিচয়ে বিশাল

খেলোয়াড় হিসেবে ফোরলান যতটা কালজয়ী, ডাগআউটে তার ঝুলিতে অভিজ্ঞতা ঠিক ততটাই কম।

কোচিং অভিজ্ঞতা: ২০২০ সালে প্রিয় ক্লাব পেনিয়ারোলের হয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করলেও প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় মাত্র ১১ ম্যাচ পর সরে যেতে হয়। এরপর ২০২১ সালে দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আতেনাসের হয়ে ১২টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন।

খেলোয়াড় হিসেবে অর্জন: দেশের হয়ে ১১২ ম্যাচে করেছেন ৩৬ গোল। ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে সেমিফাইনালে তোলার মূল কারিগর ছিলেন তিনি, জিতেছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। ২০১১ সালের কোপা আমেরিকা জয়েও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তার জুটি ছিল অনবদ্য।

ক্লাব ক্যারিয়ার: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে লিগ শিরোপা জিতলেও সময়টা প্রত্যাশামাফিক কাটেনি। তবে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়াল ও আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে জোড়া ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু’ জিতে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের আলাদা ছাপ রেখেছিলেন।

কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুটা মন্থর হলেও উরুগুয়ের ফুটবলে ফোরলানের অবস্থান এমনই উচ্চতায় যে, এই কঠিন সময়ে তাকে দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম চালটি চালল দেশীয় ফুটবল বোর্ড।

 

Related Articles

Latest Posts